প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৩
তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:
ডাক ও টেলিযোগোযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা অত্যাবশ্যক। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত মনোযোগী। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন (আইপিভি)– ৬ প্রযুক্তি অপরিহার্য। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইপিভি-৪ ভার্সনের রাউটার আমদানি রহিত করা হয়েছে। আইপিভি ৬ বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মাফিক কাজ চলছে। ইন্টারনেট সেবাদাতাদের প্রতিষ্ঠানসমূহের সংগঠন আইএসপিএবিকে এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী
মন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় এক হোটেলে আইএসপিএবি’র আয়োজিত নেটওয়ার্ক এন্ড এডভান্সড বিজিএফ রাউটিং বিষয়ক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ডিজিটাল সংযোগ ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না উল্লেখ করে বলেন, ইন্টারনেট এখন শহরের গণ্ডি অতিক্রম করে দুর্গম অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান চাহিদা। মানুষের এই চাহিদা পূরণে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইভারের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়েছি। দেশের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কর্মসূচি প্রনয়ণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও আমরা দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ এলাকায় মোবাইল ফোনের ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের এই অগ্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গত সাড়ে চৌদ্দ বছরে বাংলাদেশের অভাবনীয় সফলতা বিশ্বের অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ডিজিটাল যন্ত্রে বাংলাভাষার এই উদ্ভাবক বলেন, দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে এই অজুহাতে ১৯৯২ সালে বিনা টাকায় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ গ্রহণ থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে তৎকালিন সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের পর ভি-স্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেটের অভিযাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন ২০০৬ সালে দেশে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকা। একদেশ একরেটের মাধ্যমে আমরা দেশে এখন এক এমবিপিএস ইন্টারনেট মাত্র ৬০ টাকা দাম নির্ধারণ করেছি। ২০০৮ সালে দেশে সাড়ে সাত জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতো বর্তমানে ব্যবহারের এ পরিমান ৫ হাজার জিবিপিএস অতিক্রম করেছে। উচ্চগতির ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়ায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার হাওর বেষ্টিত গ্রাম আহমেদপুর কিংবা মধুপুরের দুর্গম পাহাড়ের বাসিন্দারাও ঘরে বসে বৈদেশিক মূদ্রা আয় করছে, সেখানে গড়ে তুলেছে আইটি ইন্ডাস্ট্রি।
তিনি বলেন, আগামী ২ বছর এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোন উন্নত দেশের তুলনায় ডিজিটাল সংযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে। ইন্টারনেট সহজলভ্যতার কারণে দেশে ভয়েস কল ক্রমেই কমে আসছে এবং ডেটা কল বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন এক সময় আসবে ভয়েস কল বিলীন হয়ে যাবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি জগতে তার দীর্ঘ ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে সব অর্জন করা যায় না। কর্মজীবনের শিক্ষা কর্মজীবন থেকেই শিখতে হয়।
তিনি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের উদ্দেশ্যে বলেন, উচ্চগতির ইন্টারনেট গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি আপনারা। সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও এর কারিগরি বিষয় সমূহ নিয়ে গ্রাহকদের সচেনতার দায়িত্ব রয়েছে আপনাদের। তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আপনি আজ যা শিখছেন আগামীকাল তা কাজে নাও লাগতে পারে। এজন্য প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে আপনাকেও এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। মন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এহসানুল কবির, অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত এপনিক প্রশিক্ষক ডেভিড মিচেল পালান এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া বক্তৃতা করেন।
মোঃ আব্দুর রহিম খান প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এখন আর অস্ত্রের ওপর নয়; নেটওয়ার্কের সুরক্ষার ওপরই নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন।
বিটিআরসি’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এহসানুল দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বছরে ৩৫ শতাংশ হারে বাড়ছে উল্লেখ করে বলেন, ২০২৩ সালে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার হবে ৬০০০ জিবিপিএস। ২৫ সাল নাগাদ প্রয়োজন হবে সাড়ে ৮ হাজার এবং ৩০ সালের মধ্যে ১৯ হাজার জিবিপিএস।
সভাপতির বক্তব্যে ইমদাদুল হক ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স আপডেটে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি মোবাইল অপারেটরদের মতো আইএসপিএ-দের জন্য অ্যাক্টিভ শেয়ারিং সুযোগ করে দিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর সহযোগিতা চান।