ভুল পরিচয়ে’ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাভোগ, মুক্তি পেলেন সোনা মিয়া

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্, গাস্ট ১৫, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

‘ভুল পরিচয়ে’ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাভোগ করা সোনা মিয়াকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারাগার থেকে বের হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার মো. দেলোয়ার জাহান।

এর আগে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিমের আদালত চারটি শর্তে সোনা মিয়াকে কারামুক্তির আদেশ দেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে তাকে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

জেলার মো. দেলোয়ার জাহান বলেন, সোনা মিয়া কারাগারে আসার পর রোলকলে জানতে চান, কী অপরাধে তাকে কারাগারে আনা হয়েছে। তাকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হলে তিনি বিস্মিত হন। পরে পুরোনো নথিতে থাকা ছবি, পরিচয় ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে তার তথ্য যাচাই করে গরমিল পাওয়া যায়।

বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে পরিচয় নিয়ে জটিলতার বিষয়টি উঠে আসে।

আদালতের শর্ত অনুযায়ী, সোনা মিয়াকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। পাশাপাশি প্রতি মাসের প্রথম মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর থানায় হাজির হয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রতি তিন মাস পর সোনা মিয়ার উপস্থিতি ও অবস্থান সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন দিতে সদর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Nagad

কারাগার থেকে বের হওয়ার পর স্ত্রী, সন্তান ও মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোনা মিয়া। পরে স্বজনেরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

কারামুক্তিতে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সোনা মিয়া বলেন, কারাগারের প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে দিনের মতো এবং প্রতিটি দিন বছরের মতো দীর্ঘ মনে হয়েছে। শুরুতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত হলে তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

যেভাবে শুরু

২০২০ সালের ১ মার্চ রামু ও কক্সবাজার সদর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

আটকের সময় এক ব্যক্তির পকেটে পাওয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারে দুই নম্বর আসামি হিসেবে সোনা মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ জুন মাদক মামলায় কারাবন্দি থাকা সোনা মিয়া পরিচয়ধারী রমজান আলী কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই মামলায় সোনা মিয়াসহ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর গত ২৩ জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে র‍্যাব-১৫-এর একটি দল চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অভিযান চালিয়ে প্রকৃত সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করা হলে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

কারাগারে যাওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর সোনা মিয়া জেল সুপারের কাছে আবেদন করে জানান, তিনি ওই মামলার আসামি নন। এরপর মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সোনা মিয়ার ছবি, আঙুলের ছাপ, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার তথ্য যাচাই করা হয়। এতে দুই ব্যক্তির পরিচয়ে গরমিল পাওয়া যায়।

পরে জেল সুপার বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা ও দায়রা জজকে জানান। আদালত ঘটনা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত চারটি শর্তে প্রকৃত সোনা মিয়াকে কারামুক্তির আদেশ দেন।