ইরান ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান উপসাগরীয় দেশের, মার্কিন অভিযানে সহযোগিতা নয়
ইরানে হামলার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না উপসাগরীয় দেশগুলো। ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “তারা এতে জড়াতে চাইছে না।”


গত ৩০ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই এ নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশগুলো।
এ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানে হামলার জন্য নিজেদের বিমানবন্দর, আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। এমনকি হামলাসংশ্লিষ্ট কোনো উদ্ধার অভিযানে বা জ্বালানি সরবরাহেও সহায়তা করবে না তারা।
মিডল ইস্ট আই বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের এমন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি কূটনৈতিক ধাক্কা। বিশেষ করে হুতিদের ওপর হামলায় সহযোগিতা পাওয়ার পর ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সহায়তা প্রত্যাশা করেছিল ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সহায়তাপুষ্ট ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে ড্রোন ও বিমান হামলা জোরদার করেছে। পারমাণবিক কর্মসূচির ইস্যুতে তেহরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করাই এর উদ্দেশ্য বলে জানায় মার্কিন প্রশাসন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের কৌশলগত দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। স্যাটেলাইট ছবি অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেখানকার ঘাঁটিতে তিনটি বি-২ বিমান দেখা গেছে।
৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম এসব বিমান একবারে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের ‘বাংকার বিধ্বংসী’ বোমা বহন করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯০-এর দশকে ইরাক যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞার সময়ও এই দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর নিরপেক্ষ অবস্থান ইরানকে নতুন করে কূটনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি দিতে পারে।
এদিকে, মে মাসের শুরুতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সফরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।