গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, বন্ধ সব বেকারি, সংকটে লাখো মানুষ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২৫

ইসরায়েলি বাহিনী ঈদুল ফিতরের ছুটির তৃতীয় দিনেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় বোমাবর্ষণ চালিয়ে গেছে। এতে কমপক্ষে ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে।

গাজায় চলমান অবরোধের কারণে খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) পরিচালিত ২৫টি সহ সব বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ ইসরায়েলি অবরোধ ৩১তম দিনেও চলছে। এটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে দীর্ঘ অবরোধ।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গাজায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করেনি। জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) জানিয়েছে, গাজায় প্রবেশ করতে চাওয়া ৮২ শতাংশ মানবিক সহায়তা ইসরায়েলি সেনারা আটকে দিয়েছে।

OCHA আরও বলছে, ‘জরুরি সরঞ্জাম সংগ্রহ বা বেকারিতে জ্বালানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।’

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে গাজার ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

ঈদুল ফিতরের সময়েও ফিলিস্তিনিদের কাছে আনন্দ করার কিছু ছিল না। কারণ খাদ্যের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের কোনো শেষ নেই।

Nagad

শুধু গাজা নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী সৈন্যদের সহযোগিতায় ডুমা গ্রামে আক্রমণ চালিয়েছে, এতে কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর দুই মাস গাজায় কিছুটা শান্তি থাকলেও, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ফের বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানালেও, ইসরায়েল অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।