৩৯ বছর পর নির্বাচন, ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩৯ বছর পর। আজ শনিবার (১জুন) প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো ভোট চলছে । জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ও ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ নামে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে । দ্বি-বার্ষিক এ নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে জেলার ব্যবসায়ীরা খুশি । ২০১৫ সালে পর থেকে ব্যবসায়ীদের অর্ন্তদ্বন্দ থাকার কারণে প্রশাসক নিয়োগ করে জেলা প্রশাসন ।
ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর জেলার ব্যবসায়ীদের প্রথম ভোট । তাও আবার দীর্ঘ ৩৯ বছর পর । ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ঝিনাইদহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কখনই এর আগে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন হয়নি । সবসময় সিলেকশনের মাধ্যমেই কমিটি গঠন হয়ে এসেছে । এভাবে চলমান প্রক্রিয়ায় মাঝে ২০১৫ সালে ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রশাসক নিয়োগ করতে বাধ্য হয় জেলা প্রশাসন । তারপর থেকে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর বন্ধ ছিল কমিটি গঠন ।


নির্বাচনে দুটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী প্যানেল “সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ” ও “ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ” নামে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে । সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, । অন্যদিকে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সভাপতি খোন্দকার সাখাওয়াৎ হোসেন । তারা দুই পক্ষই ভোটে নির্বাচিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে । নির্বাচন হচ্ছে মূলত দুই গ্রুপ অর্ডিনারী গ্রুপ ও এ্যাসেসিয়েট গ্রুপে । সেখানে ১৭টি পদ রয়েছে । তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৩৭ জন । দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ ভোটররা খুবই খুশি ।
সাধারণ ভোটার ও প্রার্থী আতিকুল হাসান মাসুম জানান, ভোট হওয়ায় আমরা খুশী । গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাকে সবাই পছন্দ করবে সেই নির্বাচিত হবে ।
ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নেতা ও সাবেক সভাপতি খোন্দকার সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার । এর মাধ্যমে অবশ্যই ভালো নেতৃত্ব তৈরি হবে । জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী ।
সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতা ও সাবেক সভাপতি সাইদুল করিম মিন্টু জানান, আমরা জেলায় তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করতে চাই । দীর্ঘ দিনপর ভোট হচ্ছে । জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী ।
প্রিজাইডিং অফিসার প্রফুল্ল কুণ্ডু জানান, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো । অর্ডিনারী গ্রুপ ও এ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ভোট গ্রহণ চলছে । তিনি আরো বলেন, অর্ডিনারী গ্রুপের ভোটার সংখ্যা ২০৮ জন ও এ্যাসোসিয়েট গ্রুপে ভোটার সংখ্যা ১৪১ জন ভোট প্রদান করবেন । সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে ।