চতুর্থ শিল্পবিপ্লব-আইআর ৪.০: এম রাশিদুল হাসান

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, ০৬/১২/২০২১

একটা সময় ছিল যখন দুই-তিনটি গ্রাম মিলে হয়তো একটি টিভি ছিল। গ্রামের সবাই মিলে একসাথে বসে টিভি দেখতো। বিশেষ করে যখন সিনেমা দেখাত তখন একটা উৎসব-উৎসব ভাব ছিল। ঘরের টিভি বাইরে বের করে দেয়া হতো, সবাই উঠানে পাটি বিছিয়ে বসে পড়তো। খুবই মজার দৃশ্য – না দেখে থাকলে প্রথম ছবিটি দেখুন।

তারও আগে যখন গ্রামে টিভি ছিলোনা, তখন দূর-দূরান্তের গ্রামে বছরে-দুই বছরে একবার বড় পর্দার সাদা-কালো সিনেমা নিয়ে আসতো। আম্মার কাছে শুনেছি – একসময় এই সকল সিনেমায় বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা-সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান দেখাত। বিশাল জনসভার মত জমায়েত। কি-যে দিন ছিলো লিখে বুঝানো যাবেনা। ছোট সময় আমিও দুই-একবার দেখতে গিয়েছিলাম, মনে আছে। আপনাদের নিশ্চয়ই ছোট-বাক্সে বায়স্কোপের কথা মনে আছে। প্রদর্শকের বলার ভঙ্গিমায় তাতে আবার অন্য রকম অনুভূতি ছিলো। দ্বিতীয় ছবি।

এরপর – বাড়িতে বাড়িতে টিভি। একান্নবর্তী পরিবারের ড্রইংরুমে একটি টিভি। সবাই একসাথে বসে টিভি দেখা আর আড্ডা দেয়া। এরপর একান্নবর্তী পরিবারের প্রত্যেক পরিবারের ঘরে একটি করে টিভি। শশুর-শাশুড়ি ড্রইংরুমে আর ছেলের বউরা নিজেদের ঘরে। বিনোদন আলাদা হতে থাকলো।

এখন আবার একান্নবর্তী পরিবার বিরল। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যে যার মতো। পরিবারে হয়তো একটি টিভি আছে, কিন্তু অন্য ঘরে একটি কম্পিউটারও আছে। পরিবারের ছোটজন এখন আর টিভি দেখেনা – কম্পিউটারে গেম খেলে।

তার পরের অবস্থা আরও করুণ। পরিবারটির প্রত্যেকের একটি করে স্মার্টফোন বা ট্যাব আছে, সাথে ইন্টারনেট। একই ঘরে স্মার্টফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ নিয়ে যে যার মতো ব্যস্ত। কেউ কারও সাথে কথা বলেনা। কানে হেডফোন – অন্যের কথা শুনারও সময় নেই। মাঝে মধ্যে যদি-সেদিক তাকায় বটে – কিন্তু ইশারা ছাড়া কথা বলার সুযোগ নেই।

এভাবেই সমাজ থেকে পরিবার, আর পরিবার থেকে মানুষ একা হতে থাকে। এর পরের অবস্থা আরও ভয়াবহ – চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের যুগ। তাকিয়ে থাকার ডিভাইসটি এখন চোখে লাগানো। কন্টাক্ট লেন্সে ডিসপ্লে আর তাতে ইন্টারনেট সংযোগে অন-ডিমান্ড কনটেন্ট। কান খোলা কিন্তু শ্রবণ ইন্দ্রিয় ব্যস্ত অন-ডিমান্ড কনটেন্টে। ভাবুনতো, কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু আপনাকে ঠিক খেয়াল করে দেখছে না। হ্যাঁ, এমন দিনই আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে, চাইলেও এড়িয়ে যাত্তয়ার সুযোগ নেই। এই প্রযুক্তিকে অবশ্য ভালো কাজে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু কিভাবে?

Nagad

লেখক: এম রাশিদুল হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সিসটেক ডিজিটাল।