রেমণ্ডের প্রতিষ্ঠাতা কিন্তু থাকেন ভাড়া বাড়িতে, কেন?

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ১৯/১১/২০২১

সংগৃহীত

কাপড়ের ব্র্যান্ডের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় রেমণ্ড। ভারতের প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানিটি ১৯২৫ সাল থেকে যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৫৮ সালে মুম্বইতে তৈরি হয় রেমণ্ডের প্রথম রিটেল শো-রুম। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এটি ভারতসহ অনেক দেশেই সেরা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু যিনি এ ব্র্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা-অনেকে তার নাম অনেকেই জানেন না। জানবেন-ই বা কি করে, সে নিজেই কোনোদিনই লাইমলাইটে আসতে পছন্দ করেননি। তবে সকলের কাছে তিনি একসময় ছিলেন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি আর কেউ নন- রেমণ্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে গোটা ভারত তো বটেই, বিদেশেও এই রেমণ্ড কোম্পানির শাখা খুলেছিলেন। ২০০৬ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া। তবে এবার তিনি ফের আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন।

অঢেল সম্পত্তির মালিক-এই বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া এখন থাকেন বাড়া বাড়িতে; কিন্তু কেন? কি এমন ঘটেছিলো তার জীবনে; যার জন্য এই করুণ পরিণতি।

তাঁর আত্মজীবনী মূলক বই ‘অ্যান ইনকমপ্লিট লাইফ’ বই ও বিজয়পত সিংহানিয়া এক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জানা যায়, তিনি বলেন, ‘জীবিত অবস্থায় সন্তানদের সম্পত্তির ভাগ দেওয়া কখনই উচিত নয়। এজন্যই আজ আমার এই অবস্থা।’

তিনি জীবনে সবচেয়ে বড় পাঠ শিখেছেন। রেমন্ড গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাঁর আত্মজীবনী, ‘অ্যান ইনকমপ্লিট লাইফ’ প্রকাশ করেছেন। নিজের এই বইতে তিনি তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িত নানান অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই আত্মজীবনীতে উঠে এসেছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধিতার কথা। এছাড়াও নিজের শৈশবের দিনগুলির নানান স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর এই বইটির মাধ্যমে।

নিজের এই আত্মজীবনীতে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “অভিজ্ঞতা থেকে আমি সবচেয়ে বড় শিক্ষা পেয়েছি যে বেঁচে থাকাকালীন মাতা-পিতার সম্পত্তি সন্তানদের দেওয়ার সময় সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। মাতা পিতার সম্পত্তি অবশ্যই তার সন্তানরা প্রাপ্য, তবে এটিই তাদের মৃত্যুর পরেই দেওয়া উচিত। আমি চাই না কোন অভিভাবককে এমন যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় যা আমি প্রত্যহ সহ্য করি”।

Nagad

এখানেই শেষ নয়, বিজয়পথ সিঙ্ঘানিয়া আরও জানান, “আমাকে আমারই অফিসে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল যেখানে আমার গুরুত্বপূর্ণ নথি পত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী গুলো ছিল। শুধু তাই নয় মুম্বাই এবং লন্ডনে আমাকে আমার গাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং আমার সচিবের সাথে যোগাযোগ করতে বারণ করা হয়েছিল। রেমন্ড কর্মচারীদের এমন কঠোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আমার সঙ্গে কথা না বলে ও আমার অফিসে না আসে”।

বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া একসময় ১২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ছিলেন। ছিলেন দেশের অন্যতম বড় শিল্পপতি। মুকেশ আম্বানির চেয়েও বড় বাড়িতে বাস করা বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়ার বর্তমানে জায়গা হয়েছে এক ভাড়া বাড়িতে।

২০১৫ সালে তিনি নিজের সমস্ত সম্পত্তি নিজের ছেলে গৌতম সিঙ্ঘানিয়ার নামে করে দেন। আর এরপরই তাঁর ছেলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। নিজের এই কষ্টের কথা নিজেই শেয়ার করেছেন বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া। তাঁর ছেলে তাঁর থেকে গাড়িও কেড়ে নিয়েছেন। এক প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে যে বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া বর্তমানে দক্ষিণ মুম্বইয়ের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সূত্র: খবর২৪

সারাদিন/১৯ নভেম্বর/ আর