কপিরাইট আইন ২০২১’র খসড়ার অনুমোদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, ২৮/১০/২০২১

সংগৃহীত

নৈতিক অধিকার, অজ্ঞাতনামা বা ছদ্ম নামের স্বত্ত্বাধিকারী, ডেটাবেইজ, পাবলিক ডোমেইন, লোকজ্ঞান ও লোকসংস্কৃতি ইত্যাদি যুক্ত করে সংশোধিত কপিরাইট আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ কপিরাইট আইন ২০২১ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

কপিরাইট আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে সচিবালয় প্রান্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যোগ দেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আজকের বৈঠকে ‘কপিরাইট আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে অনেকগুলো সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম প্রকাশ হওয়ার পর ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট থাকবে। এক্ষেত্রে স্বত্বাধিকারী যদি মারাও যান, তাহলে প্রথম দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত স্বত্বাধিকার পাবেন।

৬০ বছর পর স্বত্বাধিকারের কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ৬০ বছর পর সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

Nagad

ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ধরুন একজন গান গাইলো। সে গানের স্বত্বাধিকার তার। ৬০ বছর আগে যদি অন্য কেউ সে গান গায় তাহলে তাকে আইন অনুযায়ী টাকা দিতে হবে। যদি তিনি আপনাকে অনুমতি না দিয়ে থাকেন।

প্রস্তাবিত আইনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়ার উপযোগী করে বই প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর ফলে বঞ্চিত সমাজের অনেকেই এই কপিরাইটের আওতায় আসবে। চলচ্চিত্র সঙ্গীত জগতের অডিও ভিডিও কপি সুরক্ষার জন্য আর্কাইভে সংরক্ষণের কন্ডিশন দেওয়া হয়েছে।

আইন লঙ্ঘনে শাস্তির কি ব্যবস্থা বা ধরন কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শাস্তির জন্য তিনটি ধারা রয়েছে। এখানে অনেকগুলো বিষয়ে শাস্তি আছে। প্রতিটা বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা শাস্তির বর্ণনা করা হয়েছে।

শাস্তির উদাহারণ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কপিরাইট বিদ্যমান রয়েছে এমন কোনো কর্মের অধিকার লঙ্ঘনকারীর অনুলিপি তৈরি করেন তাহলে অনূর্ধ্ব ২ লাখ টাকা অথবা ২ বছরের কারাদণ্ড।

কম্পিউটার বা ডিজিটাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে যন্ত্র বা কোনো কম্পিউটার ব্যবহার করে আইন লঙ্ঘন করে তাহলে ২৫ হাজার টাকা ৩ মাসের কারাদণ্ড। আবার কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান যদি এমন কিছু করে অনূর্ধ্ব ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা। এ রকম অনেকগুলো বিষয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ টা শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনে শাস্তির ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শাস্তির জন্য তিনটি ধারা রয়েছে। এখানে অনেকগুলো বিষয়ে শাস্তি আছে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা-আলাদা শাস্তির বর্ণনা রয়েছে।

উদাহরণ টেনে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কপিরাইট বিদ্যমান রয়েছে, এমন কোনো কর্মের অধিকার লঙ্ঘনকারীর অনুলিপি তৈরি করেন, তাহলে সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা অথবা ২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।’