ই-কমার্সে চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগাতে চায় উদ্যোক্তা ‘লাবিব’

শাহজালাল রোহান:শাহজালাল রোহান:
প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, ১৯/১০/২০২১

ছবি : এনে দাও-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা তাহমিদ হুদা লাবিব।

করোনাকালে মানুষ যখন ঘরবন্দী, কোথাও বের হওয়ার সুযোগ নেই-ঠিক তখনই অনলাইনের শপিংয়ের মাধ্যমে পরিবারের যাবতীয় সব প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে নিয়ে যাত্রা শুরু করে অন ডিমান্ড অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবা ‘এনে দাও’। ইতিমধ্যে ঢাকায় বেশ পরিচিতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু তার এই পরিচিতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা তাহমিদ হুদা লাবিবকে প্রশ্ন করেছিলাম; তিনি খুব সহজেই উত্তর দেন-আমরা এখনো তেমন বড় হইনি, তবে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ‘এনে দাও’ সব স্তরের অনলাইন গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছে। সেম ডে ডেলিভারি করার কারণে আমাদের এই সুনামটুকু হয়েছে।

সম্প্রতি বানানিতে ‘এনে দাও’-এর কার্যালয়ে কথা হয় সারাদিন ডট নিউজের। সেখানেই অকপটে নিজের উদ্যোগের কথা জানাচ্ছিলেন তিনি।

মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে দেশেই এসে হয়েছেন উদ্যোক্তা। করেছেন দেশে তরুণদের কর্মসংস্থান। নিজের উদ্যোগের ওয়েবসাইট, অ্যাপ নিজেই তৈরি করেছেন। শুধু কি তাই; একেবারে মার্কেট যাচাই-বাছাই করে; কাজ শুরু করেছেন।‘ এনে দাও’ বিদেশ থেকে আমদানি করা এবং স্থানীয় প্যাকেটজাত খাবার পণ্য, বেবি আইটেম, প্রসাধনী, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, টয়লেটরিজ, বেকিং উপকরণ, স্টেশনারি, খেলনা এবং সব ধরনের পরিবারের প্রয়োজনীয়তার জন্য অন ডিমান্ড ডেলিভারি পরিষেবা নিয়ে কাজ করছে। আছে ডেলিভারি সেবাও।

তিনি সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, আমাদের কার্যক্রম শুরু হয় ঢাকার পাইকারি কেনাকাটার কেন্দ্র, গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেট থেকে। আমাদের একটাই লক্ষ্য কাস্টমার যাতে কোনও ধরণের হয়রানির শিকার না হয়। সম্পূর্ণ ক্যাশ অন ডেলিভারি করি আমরা। দিনে দিনে আমাদের পরিসেবা আরও বাড়ছে।’

ছবি: এনে দাও-টিম ।  ছবি: সারাদিন ডট নিউজ। 

ই-কমার্সে এখন প্রতারণা অনেক ধরণ-এমন প্রশ্ন করেছিলাম; উত্তরে তরুণ এই উদ্যোক্তা বলছিলেন, আমাদের কাছেও অনেক ধরণের অফার এসেছিলো। প্রায় ৫০০ বাইক বিক্রি করে দিবে; রাজি হইনি। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা ঠিক না। ই-কমার্সেতো তো মানুষের কষ্ট লাগব হবে। কষ্ট দিবে না। বিদেশে যেহেতু থেকেছি; দেখেছি ই-কমার্স খুব সহজ জায়গা। মানুষ খুব আনন্দের সাথে কেনা কাটা করে। আজ অর্ডার দিয়েছি, কালকেই পেয়েছি। কিন্তু এখানে ৪০-৫০ দিনের কোনও ইস্যু দেখিনি। এক কথায় কোনও ধরণের প্রতারণা আমাদের স্পর্শ করতে পারেনি আমাদের।

Nagad

এ সময় তাহমিদ হুদা লাবিব বলেন, দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করার লক্ষ্যে এনে দাও- গিফট ডেলিভারি সার্ভিস রয়েছে। যার মাধ্যমে এখন যে কোনও ব্যক্তি তাদের প্রিয়জনকে কেক, ফুল, চকলেট ইত্যাদি পাঠাতে পারেন। আমরা গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণ করি এবং তাদের ইচ্ছা এবং পছন্দ অনুযায়ী উপহার আইটেম কাস্টমাইজ করে থাকি। এটি সহ লজিস্টিক সার্ভিসটিকে নিয়ে আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।

এখন ঢাকায় ফুল ডেলিভারি সার্ভিস দেওয়া হয়, এছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা, ঠাঁকুরগায়ে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে সব জেলায় বিস্তৃতি হবে বলেও জানান তরুণ উদ্যোক্তা ।

সার্ভিসকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, জানিয়ে তরুণ এ উদ্যোক্তা বলছিলেন, ই-কমার্সে আমরা এখন শুধু ঢাকায় সার্ভিস দিচ্ছি। আমাদের রিটার্ন রেট শূন্য। গত এক বছরে একটি মাত্র পণ্য ফেরত এসেছিলো। আমরা মানুষকে প্রকৃত ই-কামার্সের স্বাদ দিতে চাই। ভবিষ্যতে এখানে ইনভেস্ট আরও বাড়ানো এবং বিনিয়োগ পেলে নতুন নতুন আইডিয়া প্রয়োগ হবে বলেও জানান তিনি।

সারাদিন/১৯ অক্টোবর/ আর