বিনিয়োগের পথ সুগম করতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টিফা চুক্তিতে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, ১৫/০৯/২০২১

সংগৃহীত

দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের পথ সুগম করতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক টিফা চুক্তিতে সই করেছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা টিফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সরাসরি এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দেশটির বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী ডান টিহান চুক্তিতে সই করেন।

গত পাঁচ দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামো এই টিফা চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ উম্মোচনের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিফার অধীনে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে যাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সেক্টর ও সাব-সেক্টরের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করার জন্য আলোচনা এগিয়ে নিতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি যে, বাংলাদেশ এমন একটি সময় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টিফা স্বাক্ষর করলো যখন বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করবো, এই ফ্রেমওয়ার্ক বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ধরে রাখা, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিসহ সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে কাজ করবে।

Nagad

অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ মন্ত্রী ড্যান তেহান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসার এবং তা অধিকতর গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে উভয় দেশে কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টিতে আরো অবদান রাখতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং জ্বালানি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বহাল রাখার বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে। অস্ট্রেলিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ। এজন্য বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ। চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

তিনি ভ্যাকসিন উৎপাদকারী দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে মানবিক কারণ বিবেচনায় বাংলাদেশে কোভিড ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে সরবরাহের অনুরোধ জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী তেহানকে অতিসত্ত্বর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করে অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী তেহান জানান, উপযুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিদল নিয়ে আগামী বছর সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশে সফর করবেন।

অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসার এবং তা আরও গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের উভয় দেশে কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টিতে আরও অবদান রাখতে পারবো।’

চুক্তি অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) হাফিজুর রহমান, অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার নার্ডিয়া সিম্পসন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।