‘আদালতের নির্দেশ পেলে কিছু অনলাইন বন্ধ করে দেব, সব নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, ১৫/০৯/২০২১

ফাইল ছবি

সাত দিনের মধ্যে অনিবন্ধিত সব অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না বলে মনে করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে এত বেশি অনলাইনের প্রয়োজন নেই। থাকা সমীচীনও নয়। আদালতের নির্দেশ পেলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমরা কিছু অনলাইন বন্ধ করে দেব।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজপোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের আদেশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

নিবন্ধনের জন্য কয়েক হাজার নিউজ পোর্টাল আবেদন করেছে। কিন্তু দীর্ঘসময় চলে গেলেও অল্প কিছু গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদনের পর যাচাই-বাছাই করার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলো তদন্তকারী সংস্থাকে দেয়। সেটি শেষ করে না আসা পর্যন্ত তো আমরা নিবন্ধন দিতে পারি না। এ কারণেই সময় লাগছে।

অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যারা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আদালতকে আমরা জানাব, সাত দিনের মধ্যে সবগুলো বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন হবে না। তবে অনেকগুলো বন্ধ করব, আদালতকে জানাব, আসলে কী প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে।

এদিন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রাশিদা চৌধুরী নিলু ও ব্যারিস্টার জারিন রহমান।

Nagad

ওই সময় রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার জারিন রহমান বলেন, যারা নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আছে, নিবন্ধনের জন্য অনুমোদন চেয়েছে তাদের অসুবিধা নেই। কারণ তারা নিবন্ধিত হয়নি, কিন্তু নিবন্ধনের অনুমতি নিয়েছে।

তিনি বলেন, যতটুকু বুঝেছি, যারা নিবন্ধনের আবেদন করেছে, কিন্তু আবেদনটি বাতিল করা হয়নি, তারা নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আছে। এই প্রক্রিয়ায় যারা থাকবে তাদের কথা আলাদা। আদালতের বন্ধের আদেশ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় থাকা নিউজপোর্টালের জন্য প্রযোজ্য হবে না বলে আমি মনে করি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেভাবে অনলাইনের নিবন্ধন দিচ্ছি, একইভাবে ইউটিউব বা আইপিটিভি নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এখনো কাউকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম গত মাস থেকে দিতে পারবো। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়ায় আমরা দিতে পারিনি। ব্যাঙের ছাতার মতো আইপিটিভি করার যে সুযোগ রয়েছে এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। যে সব আইপিটিভি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিজেকে টেলিভিশন চ্যানেলের মতো জাহির করছে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

সারাদিন/১৫ সেপ্টেম্বর/ আর