গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে চমেবি’র উপাচার্যের শোক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, ২৪/০৭/২০২১

গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান।

তিনি আজ শনিবার (২৪ জুলাই) এক শোক বার্তায় বলেন, ফকির আলমগীর ছিলেন সংগীত ভুবনের একজন কিংবদন্তী। তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। করোনার প্রাদুর্ভাব আরও বহুজনের সঙ্গে বাংলাদেশের এক কীর্তিমান শিল্পীর মৃত্যু ঘটল। তাঁর এই মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

তিনি ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রামে এবং উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।ঊনসত্তরের গণ–অভ্যুথান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও গণ–আন্দোলনে তিনি শামিল হয়েছিলেন তাঁর গান দিয়ে।

উপাচার্য বলেন, তিনি এদেশের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন। বাংলা পপগানের বিকাশেও ফকির আলমগীরের বিশেষ অবদান রয়েছে।

উপাচার্য বলেন, ফকির আলমগীরের গাওয়া ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’, ‘বনমালী তুমি’ ‘কালো কালো মানুষের দেশে’, ‘মায়ের একধার দুধের দাম’, ‘ও জুলেখা’সহ বেশ কিছু গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যাঁরা আছেন হৃদয়পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘ফকির আলমগীর গণসংগীত পরিবেশন ও দেশাত্মবোধক সংগীতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর গান বঞ্চিত, শোষিত ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে যেমন মুক্তির আস্বাদনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তেমনি তাঁর কণ্ঠে বাংলা ও বাঙালির নিত্যকার হাসি-কান্না, হর্ষ-বিষাদ ও রাগ-অনুরাগের প্রাণবন্ত উপস্থিতি প্রকাশ পেয়েছে।

Nagad

ফকির আলমগীরের নিবেদিতপ্রাণ গান এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে জানানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন উপাচার্য।

শোকবার্তায় উপাচার্য কিংবদন্তি এই গণসংগীতশিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সারাদিন/২৪ জুলাই