ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন ত্ব-হা : ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, ১৮/০৬/২০২১

নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর ইসলাম বিষয়ক বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে রংপুরে পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন জানান, রংপুরের একটি বাড়িতে তাকে পাওয়া গেছে। আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান উদ্ধার হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কারণে গাইবান্ধায় বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন ত্ব-হা। পরে তিনি রংপুরে প্রথম স্ত্রীর বাসায় চলে আসেন। সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুন) বিকেলে রংপুরে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। তার আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবু ত্ব-হাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত এই বক্তা নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত দিন পর পাওয়া গেলো।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে মি. আদনান তার দু’জন সহকর্মী, গাড়ি চালক সহ চারজনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা মারুফ হোসেন সে সময় জানিয়েছেন যে, “সর্বশেষ যোগাযোগ অনুযায়ী তারা ঢাকার গাবতলী পার হয়ে মিরপুর ১১ নম্বরের কাছাকাছি ছিল।”

“সেখান থেকে তার পরিবারের সাথেও কথা হয়েছে যে ১০ বা ১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু এরপর থেকেই তারা ডিসকানেক্টেড হয়ে যায়।” এসব অভিযোগ এনে মি. আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার এক সংবাদ সম্মেলনে তার স্বামীসহ আরও যে তিন জন নিখোঁজ হয়েছেন তাদের সবার সন্ধানের দাবি জানান।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধানদের বরাবরে চিঠি দিয়ে মি. আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়েছে। মিসেস নাহার অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করার জন্যও তাকে থানায় থানায় ঘুরতে হয়েছে।

মি. আদনান রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে ঠিক কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন – এই প্রশ্ন তুলে ঢাকার মিরপুর এলাকার দু’টি থানায় প্রথমে তাদের জিডিও নেয়া হয়নি। শেষপর্যন্ত ঘটনার পরদিন শুক্রবার নিখোঁজ ঐ ব্যক্তির মা এবং স্ত্রী রংপুরে থানায় গিয়ে দু’টি জিডি করেন। পরে মিসেস নাহার গত সোমবার মিরপুরের পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

Nagad

ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে পুলিশ সে সময় নিশ্চিত না হওয়ায় অভিযোগটি মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হয়নি। মি: আদনানের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সেখানে তিনি ইসলাম সম্পর্কে বক্তব্য দিতেন।

এছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় সমাবেশে যেতেন বক্তা হিসাবে। কোরআন শিক্ষা দেয়ার জন্য তার একটি মাদ্রাসা ছিল। তার পরিবারের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, মা ও ভাইয়ের জিডির সূত্রে আমরা (ত্ব-হার) অনুসন্ধান করতে থাকি। আজকে আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি ত্ব-হা তার (রংপুর নগরের) চারতলার মসজিদে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সেই সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে নিয়ে আসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমরা অপর সঙ্গীদেরও সন্ধান পাই।

আবু মারুফ হোসেন বলেন, গাইবান্ধায় বন্ধু সিয়ামের বাসায় ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন চারজনেই। বন্ধু বাসায় না থাকলেও তার মায়ের কাছে ছিলেন এরা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ত্ব-হা আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সফরসঙ্গীরাও তাদের ফোন বন্ধ করে ত্ব-হার কাছে রেখে দেন।

সারাদিন/১৮জুন/ আর