সিইও নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জনপ্রতিনিধিরা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ১০/০৬/২০২১

বাংলাদেশে সরকার প্রথম শ্রেণীর পৌরসভাগুলোতে একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বিষয়টির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে।

সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মূলত বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভাগুলোর সার্বিক কাজে গতি আনার জন্য এই উদ্যোগ। বেশিরভাগ পৌরসভাতে রাজস্ব আদায়ের কাজটি নিয়মিত হয় না। যে কারণে অনেক পৌরসভাই নিজেদের কর্মীদের বেতন-ভাতা নিজেরা সংস্থান করতে পারে না। এ কারণে পৌরসভার কার্যক্রমে গতি আনতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে এখন মোট পৌরসভার সংখ্যা ৩২৮টি। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা বলতে সিটি করপোরেশনের বাইরে পুরনো ও বড় জেলার পৌরসভাকে বোঝানো হয় এমন পৌরসভার সংখ্যা ১৯৪।

স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত কেবল প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সব পৌরসভাতেই হবে এই নিয়োগ।

পৌরসভাগুলোয় সিইও হবেন জেলা প্রশাসনে কর্মরত সহকারী কমিশনার বা সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এখন দেশের ১০টি পৌরসভাতে সিইও হিসেবে ১০জন সরকারি কর্মকর্তা কাজ করছেন।

জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্ন

Nagad

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পৌরসভার কাজে গতিশীলতা আনার জন্য নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই সিইওর বেতন কোথা থেকে হবে এবং তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজে হস্তক্ষেপ করবেন কি না, এ নিয়ে চিন্তিত অনেক জনপ্রতিনিধি।

দেশের উত্তর এবং দক্ষিণ অঞ্চলের পাঁচটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়ররা বলেছেন, তাদের আশঙ্কা এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের স্বাধীনতা ও পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।

নাম প্রকাশ করে বিবিসির কাছে মন্তব্য করতে চাননি তারা।

তারা বলছেন, হঠাৎ কেন এমন একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার তা নিয়ে তাদের মতামত নেয়া হয়নি। কিন্তু সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলছেন, বিষয়টি নতুন নয়, পৌরসভা আইন ২০০৯-এ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বলা আছে।

তিনি বলেন, এটি নতুন কিছু নয়, এটি পৌরসভা আইনে বলা আছে। জনবল সঙ্কটের কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি সব সময়। কিন্তু আইনে আছে সে কারণে পৌরসভার সার্বিক কাজে গতি আনার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জনপ্রতিনিধিদের আরেকটি অংশ চিন্তিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বেতন কোথা থেকে হবে তা নিয়ে। নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরি বলছিলেন, সরকারের উদ্যোগ সমর্থন করি আমি, কারণ ৯০ শতাংশ পৌরসভার কর্মীদের বেতন হয় না, বিদ্যুৎ বিল এবং খাজনা বকেয়া। খারাপ অবস্থাগুলো ঠিক করা দরকার। কিন্তু এর মধ্যে যদি সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনটাও পৌরসভাকেই দিতে হয় তাহলে আমাদের ওপর বোঝা বাড়বে।

জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের দ্বন্দ্বের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশে প্রায়শই উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়। এখন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা সে দ্বন্দ্ব সামনের দিনে পৌরসভার ক্ষেত্রেও ঘটতে দেখা যাবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলছেন, সরকার যদি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নেয় তাহলে সেটি সফল হবার সম্ভাবনা কম। কারণ সক্ষমতা বাড়াতে হয় ভেতর থেকেই। কিন্তু সরকার যদি এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাও করা যাবে।

তিনি এক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের দ্বন্দ্বের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দেশে যেটা দেখা যায় যে এখন উপজেলাগুলোতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারেরা চেয়ারম্যানদের ঠিক মানতে চান না।

আবার সরকার ইউএনওদের কথা শোনে, চেয়ারম্যানদের কথা শোনে না। ঠিক একই জিনিস পৌরসভাতেও হবে বলে আমার আশঙ্কা। সূত্র : বিবিসি

সারাদিন/১০ জুন/ আর