উবোমাস সোলার দৃষ্টি বারোয়ারি বিতর্কে পৃথা ও মোবাশ্বেরা চ্যাম্পিয়ন

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ০৮/০৬/২০২১

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ নিয়ে মানুষকে সচেতন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন বেগবান করতে গ্রীনফিনিটির এনার্জির সহযোগিতায় দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজন করে ‘উবোমাস সোলার দৃষ্টি পরিবেশ দিবস বারোয়ারি বির্তক প্রতিযোগিতা’।

গত ১ জুন থেকে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (৭ জুন) নগরের ২ নম্বর গেটের হাইড আউট রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ৯২ জন শিক্ষার্থী দুটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এতে ক গ্রুপে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নূর-ই মোবাশ্বেরা প্রথম এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইনকিয়াদ বিন হোসাইন ২য় স্থান লাভ করে। খ বিভাগে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পৃথা পারমিতা দেবী প্রথম ও বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. ইনজামামুল হক অয়ন ২য় স্থান লাভ করে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আগত অতিথিরা।

দৃষ্টির সভাপতি মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, উদ্যোক্তা ও সংগঠক গোলাম বাকী মাসুদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, তরুণ উদ্যোক্তা সৈয়দ জালাল আহমেদ রুম্মান, আবৃত্তিশিল্পী মিলি চৌধুরী। বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাবের শাহ, উপ সম্পাদক অভিষেক পাল, সাখাওয়াৎ হোসেন মজুমদার ও সহ সমন্বয়কারী হোসাইন সামী।

চৌধুরী ফরিদ বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আমরা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছি। কর্ণফুলীর পানি ধারণ ক্ষমতা অনেক কমে গেছে, হালদায় লবণ পানি ঢুকে পড়েছে যার প্রভাব জনজীবনে প্রত্যক্ষ।

তিনি বলেন, আগে অনেক পাহাড় পর্বত ছিল, আমরা গাছ কেটে সব উজাড় করছি। তাই পরিবেশ প্রতিশোধ নিচ্ছে। পলিথিন ব্যবহার কম করতে হবে। কর্ণফুলীর তলদেশে হাজার হাজার টন পলিথিন জমে এর নব্যতা কমে যাচ্ছে। কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হবে চট্টগ্রামের স্বার্থে।

Nagad

ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, পরিবেশ খুবই বিপন্ন আজ। এর জন্য আমরা নিজেরাই শতগুণে দায়ী। দেশের বাইরে থাকাতে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে ওখানকার স্কুল-কলেজে শেখানো হয় কীভাবে পরিবেশের পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে এ বিষয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। তাই ফেসবুক, টুইটার ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার করতে হবে। পরিবেশ নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

গোলাম বাকী মাসুদ বলেন, খুব বেশি দেরি হওয়ার আগে আমাদের জেগে উঠতে হবে, আমাদের সামনের দিনের জলবায়ু কেমন হবে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিতর্ক সচেতনতা বৃদ্ধির জাদুকাঠি হবে। আমরা স্বপ্ন দেখা মানুষেরা, আমাদের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাই।

তিনি বলেন, সোলার প্যানেল আমাদের আগামীর সম্ভাবনাময় শক্তির উৎস। আমাদের নিত্যনতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় চট্টগ্রামকে গ্রিন সিটি হিসেবে উঠবে।

রুম্মান আহমেদ বলেন, পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে আগের সৌন্দর্যে, আগের রূপে নিয়ে আসতে হলে সবচেয়ে যেটি বেশি প্রয়োজন তা হলো সচেতনতা বৃদ্ধি। সচেতনতা ও স্টুডেন্টদের কাছে পরিবেশের মর্মবাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

মাসুদ বকুল বলেন, অনলাইন গেমিং ও অসুস্থ বিনোদন থেকে বের করার জন্য প্রতিনিয়তই ভিন্নধর্মী আয়োজন করে আসছে দৃষ্টি চট্টগ্রাম। এ বিপর্যস্ত সময়েও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই হলো সব আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। সূত্র: বাংলানিউজ