সুনীল ছেত্রীর কাছেই হারলো বাংলাদেশ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ০৮/০৬/২০২১

ঘর সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ। ফলে বাংলাদেশকে পুরো ম্যাচে তেমন তেঁতে উঠতে দেখা গেল না। ভারতের আক্রমণ রুখতেই অনেকটা সময় পার। তারপরও রক্ষণ দৃঢ়তায় অনেকক্ষণ গোলপোস্ট আগলে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে সুনীল ছেত্রী চমকে কপাল পুড়েছে জামাল ব্রিগেডের।

সোমবার কাতারের দোহায় জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচে ভারতের কাছে ০-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।

২০১৯ সালের অক্টোবরে ভারতের মাঠ থেকে ১-১ ড্র নিয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। ওই ড্র দিয়ে বাছাইয়ে পয়েন্টের খাতা খুলেছিল জেমির দল। এবার পয়েন্টের দেখা পাওয়া হলো না। খোয়া গেল পূর্ণ তিন পয়েন্ট। ভারতের হয়ে দুটি গোলই করেন সুনীল ছেত্রী, তাও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে।

আগামী ১৫ জুন এই মাঠেই ওমানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

আফগানিস্তান ম্যাচে চোট পাওয়ায় সোহেল রানা ছিলেন না ম্যাচে। তার জায়গায় সেরা একাদশে ঠাঁই পান মানিক হোসেন মোল্লা।

শুরু থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ভারত। কিন্তু রহমত মিয়া-তপু বর্মন-কাজী তারিক রায়হান-রাফিতে সাজানো রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় জিকোর তেমন কোনো পরীক্ষা নিতে পারছিল না ভারত।

Nagad

তবে ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে ভারত। এরই মধ্যে ৮ মিনিটে রহমত মিয়ার থ্রোয়ে সতীর্থের হেডের পর বক্সে বল পেয়েও পা ছোঁয়াতে পারেননি তারিক।

১৫ মিনিটে রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। ব্রেন্ডন ফার্নান্দেসের থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন মানবির কিন্তু জিকো ছুটে এসে পথ আগলে দাঁড়ালে ভারতের এই ফরোয়ার্ড ঠিকঠাক পোস্টে শট রাখতে পারেননি।

তিন মিনিট পর আবারো বাংলাদেশের রক্ষণভাগে হানা দেয় সুনীল ছেত্রির দল। বাংলাদেশের ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ভারতের মিড ফিল্ডার সুরেশ সিং ওয়াংজাম। বল পেয়েই বা পায়ে শট নেন তিনি। কিন্তু তার শটে বেগ না থাকায় সহজেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন জিকো।

৩৫ মিনিটে নিশ্চিত গোল হজমের মুখ থেকে ফিরে আসে বাংলাদেশ। সাজানো আক্রমণে দারুণ এক ক্রসে হেড নেন ভারতের সেন্টার ব্যাক চিনগ্লেনসানা সিং। জিকো তখন বল থেকে বেশ দূরে। সানা সিংয়ের হেড জড়িয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের জালে। ডিফেন্ডার রিয়াদুল হাসান রাফি কর্নারের বিনিময়ে দলকে এ যাত্রায় রক্ষা করেন।

৩৮ মিনিটে বাংলাদেশের আক্রমণ। ডি বক্সে ঢুকে শট নেন বাংলাদেশ উইঙ্গার মতিন মিয়া। কিন্তু সন্দেশ ঝিঙ্গান বাধায় বল ঠিকানা খুঁজে পায়নি। ভারতের এই সেন্টার ব্যাক থ্রো-ইনের বিনিময়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কোনো দলই আর পরিস্কার আক্রমণ সাজাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ভারতের আক্রমণ। যদিও তাদের এই আক্রমণ সামলে নিতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি আফগানিস্তানের বিপক্ষে গোল করে বাংলাদেশকে এক পয়েন্ট এনে দেয়া রক্ষণভাগের খেলোয়াড় তপু বর্মণ।

৬৩ মিনিটে ফ্রি কিক পায় ভারত। লম্বা ফ্রি কিকে মাথাও ছোঁয়ান সুনীল ছেত্রি। কিন্তু ভারত ফরোয়ার্ডের হেড গোল পোস্টের অনেকটা দূর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৭১ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ভারতের অ্যাটাকিং মিড ফিল্ডার ব্র্যান্ড ফার্নান্দেসের শট গোল পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়।

৭৬ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে কোনো ফায়দা হয়নি। গোলের ন্যুনতম সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টা কয়েকি মিনিট পর পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৭৯ মিনিটে বিপিন সিংয়ের বাড়ানো দারুণ এক ক্রসে হেডে বাংলাদেশের জাল কাপান ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রি।

ভারতের শেষটা আরো মধুর। যোগ করা সময়ে (৯২ মিনিটে) ডি বক্সে বল পেয়ে প্লেসিং শটে দল ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন ভারত অধিনায়ক। পুরো ম্যাচ পোস্ট আগলে রাখতে পারলেও শেষ দিকে সুনীল ছেত্রীর কাছেই মূলত যেন হেরে যায় বাংলাদেশ।