লকডাউনেও রাজধানীতে তীব্র যানজট

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, ০১/০৫/২০২১

ছবি: শাহজালাল রোহান

চলছে সরকার ঘোষিত লকডাউন। কিন্তু রাজধানীর সড়কে যানবাহন ও পথচারীদের দেখে তা বুঝার উপায় নেই। সড়কে তীব্র যানজট। প্রখর রোদে যানজটের শিকার হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে যাত্রীদের। বাধ্য হয়ে বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন কেউ কেউ।

লকডাউনের প্রথম দফায় চেকপোস্টগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হলেও এখন তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। আর কোথাও কোথাও তো চেকপোস্টই গায়েব হয়ে গেছে। ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে বিধিনিষেধের শুরুতে যে কড়াকড়ি ছিল, তা এখন আলোচনা থেকে বহু দূরে। এখন ‘মুভমেন্ট পাস’ চেক করতে দেখা যাচ্ছে না পুলিশকে।

এদিকে শপিং মল ও দোকানপাট খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। কেউ নিজস্ব গাড়ি হাঁকিয়ে যাচ্ছেন মার্কেটে। কেউ যাচ্ছেন অটোরিকশা বা রিকশায়।

শনিবার (১ মে) দুপুর ১২টায় সায়েন্সল্যাব মোডে দেখা গেছে, যানবাহনের বেশ চাপ। সেখানে কথা হয় নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশে লকডাউন চলছে, এটা সরকার বলছে। কিন্তু কাজকর্মে কিন্তু তা বোঝা যাচ্ছে না। সীমিত বলেন আর বৃহৎ বলেন, অফিস বাদে সবকিছুই এখন খোলা। বিশেষ করে রমজান মাস হওয়ায় মানুষ এসব বিধিনিষেধ মানতে নারাজ।

সায়েন্সল্যাব মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহীন উদ্দিন জানান, সকাল ১০টার পর থেকে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে বেলা গড়াতে থাকলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রতি সিগন্যালে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের মত সময় লাগছে।

রামপুরার বাসিন্দা শরীফ সাব্বির জানান, রামপুরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে সেগুনবাগিচা যেতে দীর্ঘ সময় কেটেছে মালিবাগ-কাকরাইলের ফ্লাইওভারে। তখন সকাল সাড়ে ১০টা। রামপুরা থেকে কাকরাইল পর্যন্ত পুরো রাস্তাজুড়ে ছিল যানজট। গাড়িগুলো চলছিল থেমে থেমে। এরমধ্যেই মোটরসাইকেলগুলো এগিয়ে যাচ্ছিলো ধীর গতিতে। আবুল হোটেল সংলগ্ন সিগন্যালে বেশ কিছুক্ষণ থামতে হয়। তারপর ফ্লাইওভার হয়ে কাকরাইলে যেতে সময় লেগেছে প্রায় আধাঘণ্টা।

Nagad

এদিকে, লকডাউন বাস্তবায়নে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কমেছে। শুরুর দিকে যেভাবে পুলিশের কড়া নজরদারি ছিল, তা এখন নেই বললেই চলে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউন বাস্তবায়নে নগরের প্রধান প্রধান সড়কে নেই আগের মতো চেকপোস্ট। সড়কে পুলিশের অবস্থান থাকলেও এখন গাড়ি চলাচলে সেভাবে জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে না।

শাহবাগ, নিউমার্কেট, বাড্ডা, তেজগাঁও, কাওরানবাজার, নতুন বাজার, প্রগতি সরণি এলাকায় তেমনভাবে চেকপোস্ট চোখে পড়েনি। বিধিনিষেধের আওতামুক্ত পরিবহন ও ব্যক্তি ছাড়া অন্যদেরও সেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হয়নি।

সারাদিন/১মে/এএইচ