শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু করুন: নজরুল ইসলাম খান

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, ০১/০৫/২০২১

কোভিড-১৯ মহামারীকালে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালুর দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, আমরা শ্রমিকদের জন্য রেশনিংয়ের দাবি করেছিলাম। এটা নতুন কোনো দাবি নয়, বৃটিশ আমল থেকে আছে। আমরা নিজেরা যেসব কারখানায় চাকরি করেছি ওই কারখানায় রেশনিং শপ ছিল, ন্যায্যমূল্যের দোকান ছিল। সব সময় যদি নাও হয়, করোনার মতো দুর্যোগকালে শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং ও ন্যায্যমূল্যের দোকান করা উচিত। যাতে করে তারা সীমিত আয়ের মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করতে পারে।

মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক দলের রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফ্যাস্টুন নিয়ে এ সমাবেশে যোগ দেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি বিশ্বাস করি শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ঐক্য পরিষদে আমরা সবাই আছি। আমরা শ্রমিক দল আছি, জাতীয় শ্রমিক লীগ আছে, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ বহু সংগঠন আছে। আমরা সবাই মিলে একই দাবিতে আন্দোলন করতে পারি।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য। আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ন্যায্য মজুরির দাবি, সময়মতো মজুরির দাবিতে, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে। এমনকি রমজানের মধ্যে শ্রমের একটু সময় কমানোর দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে শ্রমিকদের জীবন দিতে হচ্ছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি দেশের ব্যাংকগুলো বলেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোভিডে মারা গেলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে। আমরা খুশি হয়েছি যে অন্তত একটা প্রতিষ্ঠানে এরকম একটা নিয়ম করা হয়েছে। কিন্তু যারা মূল উৎপাদনশীল শ্রমিক, যারা বেশি পরিশ্রম করে, যারা অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে ওইসব শ্রমজীবী মানুষের জন্য একই নিয়ম হবে না কেন? কেন সাংবাদিক বন্ধুদের জন্য একই নিয়ম হবে না? কেন আমার পুলিশ ভাইদের জন্য একই নিয়ম হবে না?- প্রশ্ন রাখেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।

Nagad

নজরুল ইসলাম খান বলেন, অন্যরা যদি ৫০ লাখ টাকা পায়, ২৫ লাখ টাকা পায় কোভিডে মারা গেলে, অন্যরা কেন কম পাবে, কিংবা পাবে না? স্বাধীন রাষ্ট্রে এ ব্যাপারে বিভিন্নরকম নিয়ম থাকবে কেন? বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান তার অধীনস্থদের জন্য যা উচিত মনে করে, রাষ্ট্র সারাদেশের শ্রমিকদের জন্য তা উচিত মনে করবে না কেন? কাজেই আজকে এই মে দিবসের সমাবেশ থেকে দাবি করছি সব শ্রেণীর শ্রমিকদের জন্য কোভিডে আক্রান্ত হলে তাদের সুচিকিৎসা ও মারা গেলে তাদের জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যে নিয়ম করা হয়েছে একইভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক।

তিনি আরও বলেন, কোভিড মহামারী চলছে। এ সময়ে মানুষ অনেক কষ্টে আছে। শ্রমিকরা কষ্টে আছে। বিভিন্ন পেশার মানুষ কষ্টে আছে। এ সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা বলছি না। আমরা বলছি, এই কোভিডেও সবার প্রতি সমান আচরণ, সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এ সময় শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কর্মের স্বীকৃতি প্রদান, তাদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। শ্রমিক সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শ্রম বিষয়ক সহ-সম্পাদক ফিরোজ-উজ-জামান মোল্লা, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মিয়া মিজানুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, সুমন ভুঁইয়া, আমীর খসরু, মিরাজ হোসেন ও খন্দকার জুলফিকার মতিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পরে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সমাবেশে যোগ দেন।

সারাদিন/১মে/ আরএসটি