গণপরিবহন চালুর দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, ৩০/০৪/২০২১

ফাইল ছবি

আগামী রোববার (২ মে) স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন সড়ক পরিবহন শ্রমিকরা। এরপর মঙ্গলবার দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও ঘোষণা দেন তারা।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংগঠনটির ভাষ্য, করোনাভাইরাসের মহামারীতে সব কিছু চালু থাকলেও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে ৫০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

গণপরিবহন চালুর দাবি বাস্তবায়নে রোববার বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি মঙ্গলবার সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, বাংলাদেশে সড়ক পথে প্রায় ৭৫ শতাংশ যাত্রী ও ৬৫ শতাংশ পরিবহন হয়ে থাকে। এ কাজে প্রতিদিন ৫০ লাখ পরিবহণ শ্রমিক কাজ করে থাকে। করোনায় মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। লকডাউন বিরোধিতা করছি না আমরা।

তবে কথা ছিল, লকডাউনের সময় মানুষের চলাচল, শ্রমঘন শিল্প, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোর্ট-কাচারি সব বন্ধ থাকবে। সেই হিসাবে গণপরিবহন বন্ধ থাকলে পরিবহন শ্রমিকের কোন আপত্তি ছিল না। অথচ দেখা যাচ্ছে, সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে লকডাউন শিথিল করায় গার্মেন্ট, শপিংমল, কাঁচা বাজার, অফিস আদালত চলছে। শুধু গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

Nagad

গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও বিকল্প যানবাহনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ অনিরাপদভাবে চলাচল করছে দাবি করে তিনি বলেন, এতে যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তাদেরকে হয়রানিরও শিকার হতে হচ্ছে।

“লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ৫০ লাখ সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এতে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।”

এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ চালুর পাশাপাশি শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় চাল বিক্রির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মানবে এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সহ সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু বলেন, “আমরা মাননীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা বলেছি শতভাগ স্বাস্খ্যবিধি না মানলে যে কোন শাস্তি আমরা মেনে নেব- এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ।”

শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ ছদু, মফিজুল হক, হুমায়ুন কবির খান ও আব্বাস উদ্দিন বেপু সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সারাদিন/৩০ এপ্রিল