চাষি থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে তরমুজের মূল্য বেড়ে হয় দ্বিগুণ

খুলনা প্রতিনিধি:খুলনা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, ২৯/০৪/২০২১

একদিকে চলছে রমজান মাস, অন্যদিকে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ। এই দুই মিলে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে তরমুজের দাম। এ নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে ক্ষুব্ধভাব থাকলেও একটু স্বস্তি পেতে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে তরমুজ।

বর্তমানে খুলনার বিভিন্ন বাজারে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও তরমুজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। অবশ্য কৃষকরা বলছেন, আগের চেয়ে এখন তরমুজের দাম কিছুটা কমেছে।

তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সাইজ ভেদে তরমুজের দাম ভোক্তা পর্যায়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কেজি দরে বেশি মূল্যে তরমুজ বিক্রির অপরাধে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন। তবে খুলনায় মনিটরিং ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা।

বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে দুই ধরনের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। ৬ কেজির নিচে মাঝারি আকারের তরমুজের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, আর ৬ কেজির ওপরের তরমুজের দাম চাওয়া হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি।

খুলনাবাসী মনে করেন, কেজি দরে বিক্রির কারণেই এমন দাম উঠেছে। এতো ভারী একটি ফল ছোট পরিবারের জন্য কিনতে গেলেও ৫ কেজির নিচে হয় না।

খুলনা পাইকারি বাজারে ৪ থেকে ৬ কেজি ওজনের তরমুজ ১০০ পিস বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকায়। সেই হিসেবে তরমুজের পিস পড়ে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। অথচ খুচরা পর্যায়ে সেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা থেকে ২৭০ টাকার বেশি দামে।

Nagad

এ ছাড়া ৪ থেকে ৯/১০ কেজির ১০০ পিস তরমুজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে তরমুজের পিস পড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। সেই তরমুজ ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ৪৫০ টাকার বেশি। এক্ষেত্রে তুলনামূলক বড় সাইজের একটি তরমুজ দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

ডুমুরিয়ার তরমুজ চাষি পবিত্র ঢালী বলেন, খেতে এবার তরমুজ ভালো হয়েছে। ৪ কেজি থেকে ৯ কেজি ওজনের তরমুজ তুলে বিক্রি করেছি। ১০০ পিস তরমুজ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি। প্রতি পিস তরমুজের দাম পড়ছে ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা।

আড়ত থেকে মো. রহমান নামে এক ব্যবসায়ী ১২ হাজার টাকা দরে ৫৯০ পিস তরমুজ কিনেছেন। আড়তদার ও শ্রমিক খরচ মিলে দাম পড়েছে ৭৯ হাজার ৮০ টাকা। এখানে ৪ থেকে ৬ কেজির বেশি ওজনের প্রতি পিস তরমুজের দাম পড়েছে ১১৪ টাকা পিস। এর সঙ্গে যাতায়াত খরচ মিলে দাম পড়বে ১১৮ টাকা থেকে ১২০ টাকা পিস।

নগরীর খালিশপুরের খুচরা ফল বিক্রেতা চুন্নু মিয়া বলেন, পিস এবং কেজি দু’ভাবেই তরমুজ বিক্রি করে থাকি। পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করলে ক্রেতাদের দামে পোষায় না। যে কারণে ক্রেতারাই কেজি দরে কিনতে আগ্রহী হয়। সেক্ষেত্রে কি করবো। মাল তো বিক্রি করতেই হবে। তাই কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করি।

খুলনা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, বাজার তদারকি করা হয়েছে। সেখানে কেজি এবং পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। তবে যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক বলেন, বাজার ঘুরে দেখেছি। অনেকেই পিস এবং কেজি দু’ভাবেই বিক্রি করছে। যারা কেজি দরে বিক্রি করছেন তারা কেজি দরে কিনেছেন বলে জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টা যাচাই-বাছাই করছি।