এখন দুষ্কর্ম করলে তাদের কি গ্রেফতার করা যাবে না, প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, ২৬/০৪/২০২১

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের গ্রেপ্তার না করতে বিএনপির মহাসচিবের দাবির জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘মহামারির মধ্যে যারা দুষ্কর্ম করে, তাদের কি গ্রেপ্তার করা যাবে না?’

আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির পক্ষ থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে করোনাসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই করোনা মহামারির মধ্যে একটি উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আর অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের পক্ষে বিবৃতি দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব।’

‘যারা নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পত্তি, যানবাহন জ্বালিয়ে দেয়, ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষের জমির দলিলপত্র পোড়ায়, ফায়ার-রেল-পুলিশ স্টেশনে হামলা করে, ঐতিহ্য-পুরাকীর্তি বিনষ্ট করে, অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে আক্রমণ করে, তাদের কি গ্রেপ্তার করা যাবে না! তাদের বিরুদ্ধে কি দেশের ফৌজদারি আইন অকার্যকর করে দিতে হবে?’ প্রশ্ন রাখেন হাছান মাহমুদ।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির পক্ষ থেকে ডিইউজের সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের মধ্যে করোনাসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। ছবি : পিআইডি
করোনা মহামারির মধ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই যে একমাত্র পুরোটা সময়জুড়ে জনগণের পাশে আছে, সেটা গণমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের কর্মীরা কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ সময় মহামারির মধ্যে প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে অক্লান্ত কাজ করে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহের জন্য ও এগুলো বিতরণের উদ্যোগের জন্য ডিইউজে নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

Nagad

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনাকালে ব্যবসায় মন্দার অজুহাতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য। সম্প্রতি যেখানে চাকরিচ্যুতি হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে এবং সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো চেষ্টা করছে। আশা করব, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের পুনর্বহাল করার দিকেই কর্তৃপক্ষ যাবে, এই আমার প্রত্যাশা।’

ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এবং দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

পত্রিকা, টিভি, বেতার, অনলাইন গণমাধ্যমসহ প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অতিথিদের হাত থেকে করোনাসুরক্ষা সামগ্রী গ্রহণ করেন।