আত্রাই নদের তীরে চাষ হচ্ছে তরমুজ, ভালো ফলনে খুশি কৃষক

মধুমাস গ্রীষ্মের অন্যতম একটি সুমিষ্ট ফল হচ্ছে তরমুজ। পূর্বে এটি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাওয়া গেলেও বর্তমানে কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তরমুজ বছরের সিংহভাগ সময়েই পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে গরম মৌসুমে এই ফলের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এক সময় উত্তরের খাদ্য ভাণ্ডার নওগাঁর ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চলে তরমুজের ব্যাপক হারে চাষ হতো কিন্তু কালের আর্বতে এখন আর না হলেও ইদানীং আবার বিক্ষিপ্ত ভাবে আত্রাই নদের অনাবাদী তীরে কিছু কৃষক এই তরমুজের চাষ শুরু করেছেন।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদীর তীরসহ ছোট-বড় কয়েকটি চরে চাষ হচ্ছে তরমুজ। কম খরচে ভালো ফলন পেয়ে খুশি কৃষকরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এবার অনেকেই চরে বাণিজ্যিক ভাবে তরমুজ চাষ করেছেন। এক সময় নদীতে জেগে ওঠা চরগুলো অনাবাদী পড়ে থাকতো। এখন ওই সব অনাবাদী জমিতেই তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে যে, পত্নীতলা উপজেলার নিরমইল, মাটিন্দর, কৃষ্ণপুর, পাটিচরা, নজিপুর, ঘোষনগর ও শিহাড়া ইউনিয়নের কৃষকরা তরমুজ চাষ করেছেন।

এছাড়াও আত্রাই নদের তীরসহ ছোট-বড় কয়েকটি চরে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এ বছর তরমুজের দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। উপজেলার তরমুজ চাষিদের বেশির ভাগ পাশের গ্রাম থেকে এসেছেন। স্বল্প সময়ের জন্য চরাঞ্চলে আসা এই কৃষকরা ক্ষেতেই তাবু টানিয়ে অস্থায়ী বসতি গড়েছেন। ক্ষেত থেকে তরমুজ তোলা শেষ হলে তারা আবার নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট চাঁদপুর, বড় চাঁদপুর, পূর্ব পাটিচারা, বড় পাটিচারা এলাকাসহ নদীর দুই পাশে ৫হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। গ্লোরি, জাম্বু, ওরিয়ন ও বাংলালিংক জাতের বিদেশি তরমুজ চাষ করেছেন কৃষকরা। এ বছর তরমুজের ভালো ফলন ও ভালো দামে খুশি তরমুজ চাষিরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ন্যায্যমূল্যে তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন তারা।

তরমুজ চাষি সাহেব আলী, অখিল চন্দ্র, রামপাল চন্দ্রসহ অনেক তরমুজ চাষিরা বলেন, চলতি বছর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রযুক্তিগত সহায়তায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি একর জমিতে ২৫থেকে ৩০হাজার টাকা খরচ করে আনুমানিক চার হাজার তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে। যার আনুমানিক বিক্রয় মূল্য ৫লাখ টাকা।

Nagad

এছাড়া চলতি মৌসুমে গরমের পরিমাণ বেশি ও রমজান মাস হওয়ায় বাজারে তরমুজের চাহিদাও রয়েছে অনেক বেশি। তাই অন্যান্য এলাকার তরমুজের পাশাপাশি আমাদের এলাকায় উৎপাদিত তরমুজের চাহিদাও রয়েছে খুব ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তরমুজের দ্বিগুণ ফলন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পরামর্শে উপজেলার আত্রাই নদীর বেশ কয়েকটি অনাবাদী চরে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। খরচ বাদ দিয়েও কৃষকরা অনেক লাভবান হচ্ছেন। আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। তারপরও কৃষকদের সর্বাত্মক সহায়তা করার চেষ্টা করছি। আগামী বছরে এই তরমুজের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি আশাবাদী।