চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. ইসমাইলকে পুনঃনিয়োগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ, ২৬/০৪/২০২১

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে পুনঃ নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মো ইসমাইল খান। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) প্রাক্তন ছাত্র।

আজ সোমবার (২৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার ভিসি নিয়োগের বিষয়টি জানায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তিনি প্রথম ভিসি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের ডীন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান ১৯৬০ সালে ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার মিরসরায় থানার মঘাদিয়া ইউনিয়নের “শান্তা মিয়া কাজী বাড়িতে” জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে মিরসরায় হাই স্কুল থেকে মেধার স্বাক্ষর রেখে চার বিষয়ে লেটার মার্ক নিয়ে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হোন। ১৯৮৪ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। ১৯৮৫ সালে রাঙামাটির কাউখালির উপজেলা সরকারি মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রভাষক হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ফার্মাকোলজি বিভাগে বদলি হোন। ১৯৯০ সালে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন IPGM&R) ফার্মাকোলজি এমফিল কোর্সে ভর্তি হোন। ১৯৯৩ সালে এমফিল ডিগ্রী অর্জন করে ১৯৯৪ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বদলী হয়ে ০৪ মাস দায়িত্ব পালন করার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৭ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বদলী হোন। ১৯৯৭ সালে সহযোগী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউর্থ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ে (UNSW) WHO এর স্কলারশিপ নিয়ে মেডিকেল এডুকেশনে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৯-২০০১ সাল পর্যন্ত আবারো ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে বদলী হোন। ২০০৩ সালে USM (University Science Malaysia) তে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৬ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে আবারো কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৯ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ০৪ মাস কাজ করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।

পাশাপাশি ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নির্বাচিত হোন এবং ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্য এবং সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ২০১৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন।

Nagad

সর্বশেষ ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হোন এবং অদ্যবধি দক্ষতার সাথে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি মালয়শিয়ায় CYBERJAYA UNIVERSITY-এর ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে নিযুক্ত আছেন। তাছাড়া তিনি বিশিষ্ট গবেষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (BMRC) এর রিসার্চ কমিটির সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন।

অধ্যাপক ডা. মো ইসমাইল খানের রাজনৈতিক এবং সামাজিক জীবন

* সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৮২-৮৩)।

* প্রচার সম্পাদক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম জাতীয় কমিটির (অধ্যাপক এম এ কাদেরী-ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন ) ১৯৯৪।

* নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৪-১৯৯৬।

* নির্বাচিত সমাজসেবা সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৭-১৯৯৯।

* ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে “জনতার মঞ্চ” আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এবং যার প্রেক্ষিতে ২০০২ জোট সরকার ১১০ জন চাকুরিচ্যুতের নোটিশ প্রদান করেন তার অন্যতম একজন।

* ২০০৬ সালে অক্টোবরে দেশে ফিরে বাংলাদেশে ভোটের অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একজন পেশাজীবি হিসেবে যথাযথ ভূমিকা পালন করেন।

সারাদিন/২৬ এপ্রিল