চালের দাম লাগামহীন : নিম্ন আয়ের মানুষের মাথায় হাত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, ২২/০৪/২০২১

রাজধানীসহ সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। যার ঘানি টানছে সাধারণ মানুষ। বাজার পরিস্থিতি এমন হয়েছে, খুচরা বাজারে গরিবের মোটা চালের কেজি এখন ৫২ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এতে খেটে খাওয়া মানুষের মাথায় হাত পড়েছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে খুচরা পর্যায়ে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৬০ থেকে ৬৪ টাকা। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি ছিল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা। আর মোটা চাল ছিল ৫০ টাকার নিচে।

চালের দামের বিষয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করা মইদুল ইসলাম বলেন, চালের বাজারে কোনো নজরদারি নেই। দফায় দফায় দাম বাড়ছে। এখন এক কেজি মিনিকেট চাল কিনতে ৭০ টাকা গুণতে হয়। এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। সব দায়, কষ্ট যেন সাধারণ মানুষের।

তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে অধিকাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম কমেনি। বরং উল্টো আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা খুবই কষ্টে আছে।

রিকশাচালক প্লাবন বলেন, লকডাউনের কারণে আমাদের আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। দিনে একশ টাকা আয় করা কষ্টকর হয়ে গেছে। এর মধ্যে তরিতরকারি সবকিছুর দাম বেশি। ৫০ টাকার নিচে এক কেজি চাল পাওয়া যায় না। এখন বুঝেন, আমরা কেমন আছি। চালের দাম কম থাকলেও কোনো রকমে পানি দিয়ে সেদ্ধ করে খেতে পারতাম। কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন এক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।

বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মিল মালিক ও বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধ, মিল মালিকদের মজুতের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া, সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ প্রভৃতি। তবে এতকিছুর পরও দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কমানো হয় আমদানি শুল্ক। এখন আমদানি শুরু হলেও দাম কমেনি।

Nagad

পুরান ঢাকার বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানান, কিছুদিন আগে প্রতি কেজি মিনিকেট চালের দাম ছিল ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬০ টাকা ৫০ পয়সা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬১ টাকা ৫০ পয়সা। নাজিরশাইল চালের দাম ছিল ৬০ থেকে ৬১ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকায়। বিআর-২৮ চালের দাম ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪৯ থেকে ৫০ টাকা। পুরান ঢাকার আড়তদাররা চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেন।

মেসার্স ফরিদ রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন জানান, বাজারে মিনিকেট চাল তৈরির ধানের মজুত শেষ পর্যায়ে। এ ধান মূলত বোরো মৌসুমে উৎপাদন হয়। বাজারে মিনিকেট ধানের দাম বেশি থাকায় চালের দাম বাড়ছে। ভারত থেকে চাল আমদানি হওয়ার পরও দামে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান তিনি।

সারাদিন/২২এপ্রিল/এএইচ