সড়কে গণপরিবহন ছাড়া সব যানবাহনই চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, ২২/০৪/২০২১

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দ্বিতীয় দফায় কঠোর লকডাউন বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে জনগণকে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও দিন যত গড়াচ্ছে রাজধানীর সড়কে গণপরিবহন ব্যতীত সব যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। কোথাও কোথাও যানজটও লেগে যাচ্ছে।

এছাড়া গত কয়েকদিন পুলিশের চেকপোস্টে কড়াকড়ি দেখা গেলেও নানা সমালোচনার মধ্যে তা কমতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার(২২ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুর, গাবতলি, শ্যামলী, আসাদগেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মালিবাগ, মগবাজার, কাকরাইল ও পল্টন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে দুজন আরোহণ করছে এবং সিএনজিতে চারজন থেকে পাঁচজন পর্যন্ত চলাচল করছে। মোটরসাইকেলে দুজন চলাচল করলেও পুলিশ তাদের দেখে অনেকটা নিশ্চুপ অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। এমনকি মোটরসাইকেলে ডেকে ডেকে যাত্রী তুলতেও দেখা যায় অনেক রাইডারকে।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করে দেখা যায়, গত কয়দিন যেখানে পুলিশের চেকপোস্টে ছিল সেখানে আজকে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এছাড়াও রাজধানীর কিছু কিছু সড়কে যানজট না থাকলেও কোথাও কোথাও সিগন্যাল লক্ষ্য করা গেছে। পুরো সড়কজুড়েই রিকশা আর সিএনজির আধিপত্য চলছে। আর সড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

Nagad

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কারওয়ান বাজারের একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, লকডাউনে রাস্তায় চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও অনেকে বিনা প্রয়োজনেও বের হচ্ছেন। আমরা এমন ক্ষেত্রে জরিমানা করছি। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছেন। তবে জরুরি সেবায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা অবাধে চলাচল করতে পারছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শফিকুল ইসলাম বলেন, বাসা থেকে রাস্তায় বের হলেই চারিদিকে মানুষ আর মানুষ। এতো মানুষের ভিড় যে, তাতে লকডাউন মনেই হচ্ছে না। রিকশা ভাড়া দিতে দিতে গত কয়েকদিনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বাসটাই শুধু চলছে না। বাস চললে অন্ততপক্ষে যাতায়াতে কিছু টাকা খরচ কম হতো।

মালিবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবুল কালাম নামের একজন বলেন, এটার নাম লকডাউন? সড়কে দেখেন এতো গাড়ি চলছে। পুলিশের কোনো বাধা নেই। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা না করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। কষ্টে পড়ে মানুষগুলো সড়কে নামছে। তাই পুলিশ কিছুই করতে পারছে না।

শান্তিনগরে রিকশাচালক রফিক বলেন, পেটের জন্য সকাল ৭টায় রিকশা নিয়া নামছি। এখন বাজে ১০টা। দুইটা খ্যাপ পাইছি। দেখেন স্যার, অনেক রিকশা মোড়ে মোড়ে আছে, প্যাসেঞ্জার নাই।

এদিকে, প্রতিনিয়ত দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় নগরবাসীকে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকতে হবে। সচেতনতাই পারে এ মহামারি থেকে দেশকে রক্ষা করতে।

সারাদিন/২১এপ্রিল/এএইচ