জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় আসামি পুলিশ কর্মকর্তা দোষী সাব্যস্ত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ২১/০৪/২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় সব অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শাউভিন। গত বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় এই পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ হলো—সেকেন্ড ডিগ্রি অনিচ্ছাকৃত হত্যা, থার্ড ডিগ্রি হত্যা ও সেকেন্ড ডিগ্রি নরহত্যা।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও বিবিসির প্রতিবেদনে আজ বুধবার ( ২১ এপ্রিল) এ খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেকেন্ড ডিগ্রি অনিচ্ছাকৃত হত্যার জন্য সর্বাধিক ৪০ বছর, থার্ড ডিগ্রি হত্যার জন্য সর্বাধিক ২৫ বছর ও সেকেন্ড ডিগ্রি নরহত্যার জন্য সর্বাধিক ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হতে পারে শাউভিনের। শাস্তি দেওয়ার আগ পর্যন্ত শাউভিন কারাগারে থাকবেন। আদালত জানিয়েছেন, পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে শাউভিনের কারাদণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, শাউভিন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

জুরির সিদ্ধান্ত পড়ার আগে বিচারক রায়টি সঠিক কিনা তা জানতে প্রতিজন জুরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক চৌভিন নয় মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে মাটির সাথে চেপে রাখার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Nagad

এর আগে গত সোমবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর বিচারকদের একটি হোটেলে আইসোলেটেড করে রাখা হয়, যেন বিচারের জন্য বাইরের কোনো প্রভাব না পড়ে।

এদিকে, শাউভিনকে দোষী সাব্যস্ত করার পরই আদালতের বাইরে জর্জ ফ্লয়েডের পক্ষে আন্দোলনকারীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এ ছাড়াও জর্জ ফ্লয়েডের পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। ফ্লয়েডের পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প মনে করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া রায়।

এদিকে, রায় ঘোষণার পরই ফ্লয়েডের পরিবারকে ফোন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। বাইডেন বলেন, ‘অন্তত এখন কিছু ন্যায়বিচার হয়েছে।’ বাইডেন আরও বলেন, ‘আমরা আরও অনেক কিছু করতে যাচ্ছি। পদ্ধতিগত বর্ণবাদ মোকাবিলায় এটি প্রথম পদক্ষেপ।’

গত বছরের ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশি সহিংসতা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। সূচনা হয় ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ নামের আন্দোলনের।