জাল দলিলে জমি দখলের চেষ্টা, প্রতারকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সাভার প্রতিনিধি:সাভার প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, ১৯/০৪/২০২১

সাভারের আশুলিয়ায় জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের অভিযোগে খলিলুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত। সিআডির প্রতিবেদনে জাল দলিলের প্রমাণ পাওয়ায় এ রায় দেন আদালত।

জানা গেছে, গত ২০২০ এর জুলাই মাসের ৭ তারিখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান মো: মেহেদী মাসুদ মঞ্জু বিজ্ঞ আদালতে মো: খলিলুর রহমানের নামে একটি প্রতারণা সহ দলিল জাল জালিয়াতির একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জিরাবর তৈয়বপুর মৌজায় অবস্থিত খতিয়ান-৬-৪, এস,এ খতিয়ান-১০২ আর এস খতিয়ান-২২৪, সিএস ও এস এস দাক নয়-২৮২, আর এস দাগ নং-১০৫৭ এর আর এস রেকর্ডীয় জমির মালিক ও দখলদার ছিলে মুঞ্জু দেওয়ানের দাদা তাজ আলী দেওয়ান। পরে সেই জমি পাঁচ পুত্র ও পাঁচ কন্যার নামের জীবিত ওয়ারিশাদর রাখিয়া ১৯৬৮ সালের আগস্ট মাসের ২ তারিখে মারা যান। পরবর্তীতে মুঞ্জু দেওয়ান সেই সকল ওয়ারিশদের কাছ থেকে আম-মোক্তার নানা দলিলের মাধ্যমে সেই জমি দেখাশুনা, রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। তবে আসমি মো: খলিলুর রহমান ও তার দুই পুত্র দেওয়ান মো: ইউনুস এবং দেওয়ান আ: মান্নান তাজ আলী দেওয়ানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জাল দলিলের মাধ্যমে ১০৬ শতাংশ জমি মালিক দাবি করে দখল নিতে আসে। এসময় সেই জাল দলিল ফটোকপি করে মুহুরি নকল উত্তোলন করতে গেলে তার কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সেই দলিলে তাজ আলী দেওয়ানকে জীবিত দেখানো হলেও তিনি মারা যান অনেক আগেই। এসব বিষয়ে উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়।

এই মামলাটির দায়িত্ব পায় সিআইডির পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো: আব্দুস সাত্তার মোল্লা। তিনি বিজ্ঞ আদালতে আদেশ নামা পেয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ইং তারিখে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদন খলিলুর রহমান জাল দলিল করেছে সেটি প্রমাণিত হয়। পরে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এ বিষয়ে দেওয়ান মো: মেহেদী মাসুদ মঞ্জু বলেন, তারা জাল দলিল করে আমার সম্পত্তি দখল করতে বারবার থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। এছাড়া আমার দাদাতো অনেক আগেই মারা গেছে। তারা আমার দাদাকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি করেছে। আমি আমার ওয়ারিশদের থেকে জমি ক্রয় করে নিয়েছি তবুও সে আমার জমির জাল দলিল করে দাবি করে।

এ ব্যপারে অভিযুক্ত খলিলুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই জমিতে আমি দীর্ঘদিন থেকে মাছ চাষ করে আসছি। হঠাৎ করে মুঞ্জু দেওয়ান জমির মালিকানা দাবি করে।

সিআইডির সেই কর্মকর্তা মো: আব্দুস সাত্তার মোল্লা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে বলেছেন, মামলার তদন্ত কালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে খলিলুর রহমান, বিপন্দ বাজন দত্ত ( দলিল লেখক), দেওয়ান সিদ্দিক পরস্পর যোগসাজসে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্য প্রতারণামূলক ভাবে জল দলিলের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করায় তাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডে কয়েকটি ধারায় প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

Nagad