আশুলিয়ায় দিনে-দুপুরে বাড়িতে হামলা, আহত ৫

সাভার প্রতিনিধি:সাভার প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, ১৮/০৪/২০২১

সাভারের আশুলিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর দিনে-দুপুরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় ওই পরিবারের মা-মেয়ে সহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে ।

সোমবার বিকেলে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিব সিকদার। এর আগে, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আশুলিয়ার চারিগ্রাম এলাকার শান্তা বেগমের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলো- আশুলিয়ার চারিগ্রামের হোসন উদ্দিনের ছেলে আওলাদ হোসেন (৫০) ও তার ছেলে মো: সুজন (২৭), মেহেদি হাসান (৩০), মৃত আকালি মিয়ার ছেলে রাকিব হোসেন (২৫), রকি (২৭), আব্দুল হালিমের ছেলে ফিরোজ (২৫), রানা (২৮), নুছুমদ্দিনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৫০) ও কুরগাওয়ের আনিস (২৭)।

আহতরা হলেন- শান্তা বেগম (৫০) ও তার চার মেয়ে রোজিনা আক্তার (৩৫), আকলিমা(৩০), জামিনা(৫) ও শিরিন (২০) ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকেই অভিযুক্তরা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শান্তা বেগমদের সাথে বিরোধ করে আসচ্ছে। যে জমি নিয়ে অভিযুক্তরা তাদের সাথে বিরোধ করে সংঘাতের সৃষ্টি করে সেই জমি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে অভিযুক্তরা কয়েকজন মিলে লোহার রড, কাঠের ফালি ও লাঠি নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে। এসময় আমিসহ আমার চার মেয়েকে এলাপাথারিভাবে মারধর করে। পরে তারা পালিয়ে ঘরে ঢুকলে তাদের ঘরের দরজা, জানালাসহ নানা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় আশেপাশে বসবাসরত লোকজন জানতে পারলে তারা চলে যায়।

ভুক্তভোগী শান্তা বেগম সারাদিন.নিউজকে বলেন, আমার কোনও ছেলে নাই। আমার চার মেয়ে। প্রায় প্রায় তারা আমার বাড়িতে হামলা করে। আর যে জমির জন্য হামলা করে সেই জমি আমি ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছি। তবুও তারা জোর করে দখল নিতে চাই। এর জন্য বাড়িতেসহ আমাদের উপর হামলা করে। যারা হামলা করেছে তাদের সবাইকেই চিনি। ঘটনাটি নিয়ে আমি আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয় নি।

Nagad

শান্তা বেগমের মেয়ে জামিনা সারাদিন.নিউজকে বলেন, আমাদের এমন ভাবে মারধর করছে যা বলার মত না। আমার এক আপা এখনো হাসপাতালে আছে। ঘটনা ঘটার পরপর আমরা হাসপাতালে ভর্তি হই। হাসপাতাল থেকে থানায় যাই। কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করি। অভিযোগের পর হাসিব নামের এক এসআই আসে আমাদের বাড়িতে। সব কিছু দেখে যায়।আমাদের মারধরের সব প্রমাণ রয়েছে তবুও মামলা হয়নি। আমরা এখন নিরুপায়। যে কোন সময় আবার হামলা করতে পারে তারা।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিব সিকদার সারাদিন.নিউজকে বলেন, আসলে আমি জরুরি সেবা (৯৯৯) এর ফোন পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই।পরে ভাংচুরের বিষয়টি দেখতে পারি।এসময় আমি উভয় পক্ষের অভিযোগ শুনি।পরে ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দিতে বলি। কিন্তু তারা পরেরদিন আরও একটি অভিযোগ করে। এখানে আরেকজন অফিসার যুক্ত হয়। তাহলে কি আমার দায়িত্ব থাকে আর?  সে কারণে আমি এই বিষয়টি থেকে বিরত রয়েছি।

আরেকটি অভিযোগের দায়িত্বে রয়েছেন ফরহাদ বিন করিম নামের আরেকজন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই)। তিনি বলেন, জাগাজমির বিষয়ে এটা কোর্ট দেখবেন। তারা থানায় দুইটা অভিযোগ করেছে।আমিও গিয়েছিলাম আরেক অফিসারও গিয়েছে। যে অভিযোগটি আগে হয়েছে সেই অভিযোগই কার্যকর হবে। একটা থানায় দুইটা অভিযোগ হতে পারে না।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) আব্দুর রশিদ বলেন, আমি আপনার কাছে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমি আমার কর্মকর্তাদের কাছে শুনি তারপর দেখতেছি৷ তবে ভুক্তভোগীদের আমার কাছে পাঠিয়ে দেন।