কাদের মির্জাকে মানসিক বিকারগ্রস্থ বললো উপজেলা আ.লীগ

নোয়াখালী সংবাদদাতা:নোয়াখালী সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, ১৭/০৪/২০২১

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জাকে সন্ত্রাসী, মানসিক বিকারগ্রস্থ অভিহিত করে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে তার নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেন।

শনিবার (১৭ এপ্রিল ) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে মাহবুবর রশিদ মঞ্জুর বসুরহাটের বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। পুলিশি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনটি নেতারা সংক্ষিপ্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের এখানকার সংসদ সদস্য। তাকে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশে বাধা দেয়া হলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ অপরাজনীতির হোতা আবদুল কাদের মির্জাকে দলীয়ভাবে প্রতিহত করা হবে। গত ৪ মাস যাবত কাদের মির্জার ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অশোভন আচরণে এখানকার রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

শুক্রবার রাতেও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে বোমা হামলার মিথ্যা নাটক ও গুজব ছড়িয়েছে মেয়র কাদের মির্জার অনুসারীরা। তার ছোটভাই শাহাদাত হোসেন ও তার ছেলে তাশিক মির্জার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ড্রিমলাইন পরিবহনের অফিসে হামলা ও তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি ভাংচুর করে।

গত বৃহস্পতিবার মেয়র কাদের মির্জা তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছিলেন- বায়তুল মোকাররম মসজিদ জুমার দিনে বোমা মেরে উড়িয়ে দিলে দেশে দুর্নীতি অর্ধেক কমে যাবে। এধরনের বেসামাল আচরণ করে তিনি দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। অনতিবিলম্বে পাগল কাদের মির্জাকে গ্রেফতার করে পাগলা গারদে প্রেরণের দাবি জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, পৌর ভবনের ভেতরে বাংকার করে অস্ত্রশস্ত্রসহ কয়েক সন্ত্রাসী সেখানে রেখে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে চরিত্রহননমূলক কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ফেসবুক লাইভে প্রকাশ করে যাচ্ছে। পৌর ভবনের ভেতর থেকে সকল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন নেতারা।

Nagad

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেতুমন্ত্রীর ভাগ্নে মাহবুবর রশিদ মঞ্জু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরনবী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য ও আন্তজেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আক্রম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ, সেতুমন্ত্রীর ভাগ্নে স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাতসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার কাদের মির্জা বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের আজকে এখানে আমার বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছে। ওবায়দুল কাদের তার দুর্নীতি বাজ স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য আজ ব্যস্ত। তার স্ত্রী বাঁচতে পারবে না, কোনও সুযোগ নেই। আজকে সংবাদপত্রগুলোর মুখ রুদ্ধ করে দিয়েছে। তাদেরকে কথা বলতে দিচ্ছে না। তারা সত্য ঘটনা এখান থেকে উদঘাটন করেছে। সেটা ওবায়দুল কাদের প্রকাশ করতে দিচ্ছে না। তার কি স্বার্থ? সে কি আমাদেরকে হত্যা করতে চায়? এটার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে দিচ্ছি। ওবায়দুল কাদের তোমার পুলিশ সামলাও। তোমার এ প্রশাসন সামলাও বলে দিচ্ছি। তুমি জেলে নিবে হত্যা করবে। তোমাকে আমরা ভয় করি না। তোমার খাইও না, পরিও না।’

তার অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেইবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

সারাদিন/১৭এপ্রিল/এএইচ