৪৯ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বাইরে

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, ১৭/০৪/২০২১

রোহিঙ্গা নারীদের পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বুলেটিনে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক মো. নূরুজ্জামান খান। গবেষণা দলে আরও ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. মশিউর রহমান, অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক ড. মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম।

যেখানে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ অবস্থানরত প্রায় অর্ধেক রোহিঙ্গা নারীই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন না।

গবেষণাটিতে সর্বমোট ৫০৮ জন রোহিঙ্গা নারীর নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তারা সবাই ২০১৭ সালের পরে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

গবেষণায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যে ৪৯.১১ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন না। ৫০.৮৯ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন যার মধ্যে ৬৭.৩ শতাংশ জন্মনিরোধক ডিপো প্রোভেরা ব্যবহার করেন ও ২৯.৮৮ শতাংশ জন্মনিরোধক পিল ব্যবহার করেন। তবে এই দুটি জন্মনিরোধকই যথেষ্ট কার্যকর নয়। মাত্র ২ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী অত্যন্ত কার্যকর গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেন।

সাক্ষাৎকার দেয়া নারীরা জন্মনিরোধক ব্যবহার না করার প্রধান কারণ হিসেবে স্বামীদের অসহযোগিতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের অনিয়মিত বাড়ি পরিদর্শনকে দায়ী করেন। এ ছাড়াও শিবিরে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও নারীদের কাজের ধরন জন্মনিরোধক ব্যবহার না করার কারণ হিসাবে গবেষণায় ফলাফলে পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষক দলের প্রধান মো. নূরুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘উক্ত গবেষণার ফলাফল খুবই হতাশাজনক। জন্মনিরোধক ব্যবহার না করা অথবা যথেষ্ট কার্যকর নয় এমন জন্মনিরোধক ব্যবহার করা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের অন্যতম কারণ, যা রোহিঙ্গা শিবিরে মোট গর্ভধারণের অর্ধেক বলে গবেষণায় আমারা পেয়েছি।’

Nagad

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ মাতৃ ও শিশু মৃত্যুও অন্যতম কারণ। ফলশ্রুতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃ ও শিশু মৃত্যু কমানো খুবই কঠিন হবে।’
গবেষক দলের অন্য সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। যিনি দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের রোহিঙ্গা নারীদের বাড়ি নিয়মিত পরিদর্শনের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন ‘উক্ত গবেষণায় গত ৩ মাসে ছয় কিংবা ততোধিক বার পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের বাড়ি পরিদর্শনের বিষয়টি মাত্র ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী নিশ্চিত করেছন, যা অপ্রত্যাশিত’।
গবেষণায় পাওয়া গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ৬ তারিখ পর্যন্ত এই ৩ মাসে যাদের বাড়িতে ছয় বা ততোধিক বার পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা পরিদর্শন করেছে এমন ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা নারীর মধ্যে প্রায় সব নারীই জন্মনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। সূত্র: সময় নিউজ

সারাদিন/১৭এপ্রিল/এএইচ