চলছে তৃতীয় দিনের লকডাউন

রাস্তা ফাঁকা হলেও পাড়া মহল্লা-বাজারে শিথিল লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, ১৬/০৪/২০২১

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের তৃতীয় দিনে রাজধানীর সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথারীতি কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল্লা এবং বাজারগুলোতে অনেকটাই শিথিল বিধিনিষেধ। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) যাত্রাবাড়ী এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আশেপাশের বিভিন্ন মহল্লা ও বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচল করছে। তাও সংখ্যায় খুব বেশি নয়। মাঝে মাঝে দু-একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও দেখা যাচ্ছিল।

এই মহাসড়কে পাশেই যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ, উত্তর রায়েরবাগ, শনির আখড়া, জনতাবাগ, গোবিন্দপুর, কাজলা, দনিয়া এলাকা। এসব এলাকার ভেতরে চলাচল কিংবা স্বাস্থ্যবিধি পালনের ক্ষেত্রে তেমন কড়াকড়ি চোখে পড়েনি।

মহল্লার ভেতরের বেশিরভাগ দোকানপাটই খোলা দেখা গেছে। এলাকার রাস্তার পাশে অস্থায়ী এবং স্থায়ী কাঁচাবাজারগুলোতে ছিল লোকজনের ভিড়। উত্তর রায়েরবাগে দোতলা মসজিদ এলাকায় বাজার করতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

সেখানকার মুদি দোকানি বাবুল মিয়া বলেন, ‘বেচা-বিক্রি অনেক কম। বেশিরভাগ মানুষই দেশে চলে গেছে।’

এদিকে রাজধানীর প্রগতি সরণির চেকপোস্টে কুড়িলের দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারকে থামতে সিগন্যাল দেন কর্তব্যরত পুলিশ। চালকের সিটে হাফ প্যান্ট পরা গাড়িটির মালিক। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা প্রশ্ন, কোথায় যাচ্ছেন? উত্তরে গাড়ির মালিক বললেন, ব্যাংকে গিয়েছিলাম। অপর পুলিশ সদস্যের প্রশ্ন, হাফ প্যান্ট পরে ব্যাংকে ক্যান? উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই প্রাইভেট কার মালিককে খেতে হলো মামলা। শুধু মোটরসাইকেল চালক ও প্রাইভেট কার চালকই নয়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেরুলেই মামলা ও জরিমানা গুনতে হচ্ছে অনেককে। অনেকে আবার অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছে মুভমেন্ট পাস থাকার পরেও পুলিশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

Nagad

দেশে মহামারী করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বুধবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অনেককেই নানা অজুহাতে ঘরের বাইরে বের হতে দেখা গেছে। ফলে গতকাল শাহবাগে লকডাউন নিশ্চিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া মানুষকে জরিমানাসহ শাস্তি নিশ্চিত করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর নেতৃত্বে ছিলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। এ ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ তৎপর ছিল।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত শাহবাগে চেকপোস্ট বসিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৫টি যানবাহনকে মামলা করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে নগদ সাত হাজার টাকা। এ ছাড়া সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জনসাধারণকে ২৫০টি মাস্ক বিতরণ করে র‌্যাব।

সারাদিন/১৬ এপ্রিল