খুলনার মাঠে উৎসব মুখর পরিবেশে স্বপ্নের ধান কাটছে কৃষকরা

খুলনা প্রতিনিধি:খুলনা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ, ১৬/০৪/২০২১

খুলনার মাঠে মাঠে ধুম পড়েছে বোরো ধান কাটার। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। ধান কাটা চলবে এপ্রিলের শেষ সময় পর্যন্ত।

খুলনায় টানা ৮ মাস অনাবৃষ্টি, কালবৈশাখীর ঝাপটা, লবণাক্তটা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ চাষির অনুকূল ছিল না। তবু বিস্তীর্ণ মাঠ-জুড়ে বোরো ধানের সোনালি শীষ স্বপ্ন দেখাচ্ছে হাজারো কৃষক পরিবারকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উঠবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে বোরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবার বীজতলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। পুরো মৌসুমই সেচের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়েছে। তারপরও ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এবার খুলনা জেলায় ধানের আবাদ হয়েছে ৬০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদঘরা ইউনিয়নের দক্ষিণ মিকশিমিল এলাকার অমৃত বিশ্বাস বলেন, ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এবার সুরভী-১ নামে একটি নতুন জাতের ধান লাগিয়েছি। এর আগে ২৮ ধান লাগাতাম। তবে রোগবালাই, পোকার আক্রমণের কারণে লাভের থেকে লোকসানই বেশি তাই এবার সুরভী ধান লাগিয়েছি। ধানটি খুব পুষ্ট (পুরু) হয়েছে। দেড় বিঘা জমিতে ধান লাগাতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে ধানের মণ ১ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এবার ৪০ মণ ধান পাব বলে আমি আশাবাদী।

একই মাঠে ধান কাটছিলেন অমৃত বিশ্বাসের ছেলে শুভ্রদেব বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি লকডাইনে কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় এখন ধান কাটার মৌসুমে ধান কাটছি। আশপাশের অনেক মাঠের ধান বৈশাখের ১৫ তারিখ পর্যন্ত কাটা হবে। সুরভী ধানটি খুবই সুন্দর। ভালো ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে ডুমুরিয়া উপজেলায় বোরো আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় ৫৫৫ হেক্টর ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। ধানের বর্তমান অবস্থা খুব ভালো।

Nagad

তিনি আরও বলেন, এ বছর ৮ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় ২ কেজি করে হাইব্রিড এসএলএইটএইচ বীজ, ৫৪০ জন কৃষককে ২ কেজি হাইব্রিড ধান বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া মাঠে গিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। আর ১০-১৫ দিন বড় ধরনের কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষক অন্যবারের তুলনায় বাম্পার ফলন পাবেন। তার উপজেলাটি খাদ্য উদ্বৃত্ত একটি উপজেলা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত রবি শস্যের মৌসুম। আর এই সময় যে ধান রোপণ করা হয় সেটি বোরো ধান। খুলনা জেলা একটি লবণাক্ত এলাকা। এখানে লবণ-সহনশীল ধান রোপণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিকে আবহাওয়া ভালো ছিল। কিন্তু আজ প্রায় সাত মাস বৃষ্টি নেই। কৃষকরা খাল থেকে পানি নিয়ে থাকেন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় খালের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। খালগুলোতে পানির গভীরতাও কমেছে। কোথাও কোথাও তাপদাহে ফুল ঝরে গেছে, দেখা দিয়েছে চিটা। লবণাক্তটা ও পানি সংকটে কৃষকরা দুর্ভোগে পড়েন। তারপরও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী এই কৃষি-কর্মকর্তা।