কঠোর লকডাউন'-এর দ্বিতীয় দিন

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেড়েছে যান চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ১৫/০৪/২০২১

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার। তবে লকডাউনের প্রথম দিনের চেয়ে এদিন ঢাকার রাস্তায় মানুষের সমাগম কিছুটা বেড়েছে। দিনের প্রথম ভাগে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা থাকবে। লেনদেন চলবে পুঁজিবাজারেও। এছাড়াও জরুরি পরিষেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস খোলা থাকছে।

এর আগে গতকাল বুধবার লকডাউনের প্রথম দিন সড়কে-মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে যান চলাচল ও জনসমাগম কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন বেড়েছে জনসমাগম ও যান চলাচল।

আজ সকালে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আইশৃঙ্খলা বাহিনী গতকালের তুলনায় আজ কিছুটা নমনীয়। প্রথম দিন বিভিন্ন যানবাহন ও মানুষকে বাইরে বের হওয়ার জন্য পুলিশের জেরার মধ্যে পড়তে হলেও আজ সে রকম খুব একটা দেখা যায়নি। তবে শহরের বিভিন্ন সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল করতে পারছে না।

সর্বাত্মক লকডাউনে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত সারাদেশে সব ধরনের অফিস ও গণপরিবহন, বাজার-শপিংমল, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ প্রভৃতি বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কলকারাখা। সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবাও খোলা থাকবে।

এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। খোলা স্থানে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যদি কেনাবেচা করা যাবে ৬ ঘণ্টা। এর আগে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ দেয়া হলেও সেটি মোটেও কার্যকর হয়নি।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বুধবার থেকে কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা বাস্তবায়নে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা।

Nagad

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে পুলিশের পক্ষ থেকে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বের হওয়ার নিয়ম চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ‘অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয়’ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং জরুরি বিশেষ প্রয়োজনে যাতায়াতের সুবিধা রাখা।

পুলিশ বলছে, রাজধানীর বৃহত্তর পাইকারি কাঁচাবাজার হওয়ায় কারওয়ান বাজার এলাকায় লোকসমাগম বেশি হয়। তবে মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে বাইরে আসা মানুষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তোষজনক উত্তর দিলেও বেশিরভাগই দেখাচ্ছেন খোঁড়া অজুহাত। ফলে কাউকে ফেরত পাঠাতেও দেখা গেছে।

বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সতর্কতার পাশাপাশি কোথাও কোথাও রয়েছে ঢিলেঢালাভাব।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সতর্কতার অংশ হিসেবে বেশ কিছু শিল্পকারখানা শ্রমিকদের আগমন ও প্রস্থানের সময় চার থেকে ছয় পর্বে নির্ধারণ করে দিয়েছে। এদিকে, সাভারের সড়কেও দেখা গেছে ঢিলেঢালাভাব। প্রয়োজন ছাড়াই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে অনেকেই ঘুরতে বেরিয়েছেন। কাঁচা বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতেও উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি।

তবে দিনের শুরুতে কর্মস্থলগামী চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী, জরুরি কাজে নিয়োজিত কর্মীদের আনাগোনা ছিল সড়কে। কেউ কেউ ভালোমতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারলেও কাউকে কাউকে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। শিকার হতে হয়েছে হয়রানির। কয়েকজন চিকিৎসক এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন।

সারাদিন/১৫ এপ্রিল