হাইভোল্টেজ ম্যাচে মোস্তাফিজ শুরুটা হতাশা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ১৩/০৪/২০২১

আইপিএলের ১৪তম আসরে মুস্তাফিজুর রহমানের শুরুটা হলো আক্ষেপ আর হতাশায় মোড়ানো। দুই আসর বিরতির পর রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে নেমে আম্পায়ারের ভুল আর ক্যাচ হাতছাড়ার মহড়ায় উইকেটশূন্য থেকেছেন টাইগার পেসার। যার ফলে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ২২১ রানের পাহাড় দাঁড় করে পাঞ্জাব কিংস। জবাবে ২১৭ রানেই থেমে যায় মুস্তাফিজদের ইনিংস।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই মুস্তাফিজের হাতে দল বল তুলে দেন দলের ক্যাপ্টেন কাম উইকেটকীপার সাঞ্জু স্যামসন। প্রথম বলে ফিল্ডারের ব্যর্থতায় ২ রান বের করে নেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল। ফিজের পরের বলটি আঘাত হানে সরাসরি মায়াঙ্কের প্যাডে। সমস্বরে আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার অনিল চৌধুরী। রিভিউ নিলে ঠিকই উইকেট পেতেন মুস্তাফিজ!

টিভি রিপ্লেতে তেমনই দেখা যায়। বলটি দুই উইকেটের লাইনের মাঝেই পড়েছিল আর স্ট্যাম্পেও আঘাত করত। অর্থাৎ, রাজস্থান রিভিউ নিলে নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের দেখা পেয়ে যেতেন মুস্তাফিজ। কিন্তু সাঞ্জু স্যামসন রিভিউ না নেয়ায় সেটা আর হয়নি। পরে ওই ওভারের শেষ বলে চার হজম করেন মুস্তাফিজ। একটি ওয়াইডও দেন ফিজ। নিশ্চিত উইকেট হাতছাড়ার গ্লানিতে দল যেন একটু ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। আর পাঞ্জাব পেয়ে যায় ১১টি রান।

মুস্তাফিজ আবারও বোলিংয়ে আসেন পঞ্চম ওভারে। ক্রিস গেইলকে প্রথম বলেই ডট। পরের দুই বলে এক রান করে নেন লোকেশ রাহুল ও গেইল। তিনটি ত্রুটিহীন ডেলিভারির পর ওয়াইড পেতেই যেন গেইলের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা। মুস্তাফিজের মাথার ওপর দিয়ে মারেন চার। পরের দুই বলে এক রান দেয়া মুস্তাফিজ নিজের দ্বিতীয় ওভারে দেন ৮ রান।

১৫তম ওভারে মুস্তাফিজকে তার তৃতীয় ওভারের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। প্রথম বলেই মুস্তাফিজের ডেলিভারিকে আকাশে তুলে মারেন দীপক হুদা। লং অফ থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচটি ধরতে পারতেন বেন স্টোকসই। কিন্তু স্বদেশী জস বাটলার এক্সট্রা কভার থেকে দৌড়ে এসে বল তালুবন্দীর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় মুস্তাফিজকে কিছুটা মেজাজ হারাতেও দেখা যায়। উইকেট হারানোর বেদনাহত এই ওভারেও একটি ছক্কাসহ মোট ১১ রান দিতে হয় মুস্তাফিজকে।

১৯তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে আসেন মুস্তাফিজ। প্রথম দুই বলে এক রান করে দেয়ার পর ডট বল করলেও তা নো বল হিসেবে চিহ্নিত করেন আম্পায়ার। নার্ভাস মুস্তাফিজ পরের বলটি করেন ওয়াইড। ফ্রি হিট কাজে লাগিয়ে চার আদায় করেন রাহুল। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে আরও ৩ রান হজম করার পর শেষ বলে মুস্তাফিজকে দেখতে হয় আরেকটি চার, যা আসে আলোচিত তরুণ শাহরুখ খানের ব্যাট থেকে। এই ওভারে মুস্তাফিজ খরচ করেন ১৫ রান।

Nagad

অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৪ ওভার বল করে ৪৫ রান দিয়েও উইকেটশূন্য থাকতে হয় মুস্তাফিজকে। মুস্তাফিজ ছাড়া বাকি বোলাররাও খরুচে ছিলেন এদিন। ৮ বোলারের হাতে বল তুলে দিয়েও রানের ফোয়ারা বন্ধ করতে পারেননি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সাঞ্জু। বলার মতঅ ভালো করেছেন কেবল চেতন সাকারিয়া। ৩১ রানের খরচায় শিকার করেন ৩টি উইকেট, যার ২টিই শেষ ওভারে। এছাড়া ‘কোটিপতি’ ক্রিস মরিস ৪১ রানের খরচায় শিকার করেন ২টি উইকেট।

অন্যদিকে, প্রায় শেষ পর্যন্ত খেলেও অল্পের জন্য শতকের দেখা পাননি পাঞ্জাব অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ইনিংসের ৪ বল বাকি থাকতে ৯১ রানে থামে তার ইনিংস, ৫০ বলের মোকাবেলার এই ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কার মার। এছাড়া দীপক হুদা ২৮ বলে ৬৪ ও ক্রিস গেইল ২৮ বলে ৪০ রান করেন। যাতে ২২১ রানের বিশাল স্কোর গড়ে পাঞ্জাব।

জবাব দিতে নেমেই শূন্য রানে ফেরেন বেন স্টোকস। পরে মানান ভোহরা (১২), জস বাটলার (২৫), শিভম দুবে (২৩) ও রাইয়ান পরাগের (২৫) ছোট ছোট সঙ্গ পেয়ে ৫৪ বলে সেঞ্চুরি হাঁকালেও দলকে কাঙ্ক্ষিত জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি রাজস্থান অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসন। ইনিংসের শেষ বলে গিয়ে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলে তাঁর দল হারে মাত্র ৪ রানে।

শেষ ওভারে মাত্র ১৩ রান লাগতো রাজস্থানের। আর্শদীপের করা প্রথম বলটি ডট দেন সাঞ্জু। পরের বলে এক রান নিয়ে মরিসকে স্ট্রাইক দেন ১১৩ রানে থাকা ক্যাপ্টেন। পরের বলেও সিঙ্গেল নিয়ে সাঞ্জুকে স্ট্রাইক দেন মরিস। ফলে শেষ ৩ বলে ১১ রান প্রয়োজন পড়ে রাজস্থানের। এ অবস্থায় চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকান স্যামসন। ফলে ২ বলে ৫ রানের সমীকরণে আসে পাঞ্জাব। এমন মুহূর্তে সিঙ্গেল না নিয়ে ডট দেন সাঞ্জু। আর শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ কাভারে দীপক হুডার হাতে ধরা পড়েন সাঞ্জু। যাতে ৪ রানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রাজস্থানকে। তবে ৬৩ বলে ১১৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন সাঞ্জুই। সূত্র: একুশে টিভি