তরুণদের শক্তি ও সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, ০৮/০৪/২০২১

ফাইল ছবি

তরুণদের শক্তি ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে আমাদের যুবকদের শক্তি বাড়ানো, আইসিটির সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, প্রয়োজনীয় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং অবকাঠামোগত কাঠামো তৈরি করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে সংযোগ স্থাপনের উন্নতি।’

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়ালি ১০ম ডি-এইট শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করার সময় প্রধানমন্ত্রী তার স্বাগত বক্তব্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন।

ডি-৮ এ সহযোগিতার অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও খাদ্য সুরক্ষা, জ্বালানি, পরিবহন এবং পর্যটন।

বাংলাদেশ আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনের শুরুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান ডি-৮ এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এবং ডি-৮ এর সভাপতিত্ব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন।

‘একটি রূপান্তরকামী বিশ্বের অংশীদারি: যুব ও প্রযুক্তির ক্ষমতার শক্তি’ মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের তরুণদের বেসরকারি এমনকি সরকারি পর্যায়ে ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে একত্র হওয়ার জন্য উত্সাহ দেয়া যায়। ডি-৮ বিজনেস ফোরামের সাথে প্রথম ডি-৮ যুব সম্মেলন এই বিরল সুযোগ তৈরি করেছে।’

Nagad

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষভাবে যোগাযোগ করছে এবং কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।

তিনি জানান, মহামারিজনিত কারণে আগামী দুই বছরে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে প্রায় ৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে বলে জাতিসংঘের অনুমান করছে। ‘এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে আমাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং বৃহত্তর সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ লক্ষাধিক আইটি পেশাদার, ২৮টি হাই-টেক পার্ক এবং প্রযুক্তি বান্ধব উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহযোগিতার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বাণিজ্য যেখানে ডি-৮ সদস্য দেশগুলির দৃষ্টি দেয়া দরকার।

তিনি বলেন, ডি-৮ সচিবালয় দলের মধ্যে সম্ভাবনাময় তথ্য সরবরাহ করতে পারে এবং ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তি’-র সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

‘এই জাতীয় তথ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক সংলাপ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে এবং বাণিজ্য শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাত দ্বারাই পরিচালিত হয়,’ তিনি বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্রমণ সহজতর করা জরুরি। সেজন্য বাংলাদেশ ‘ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা পদ্ধতির সরলীকরণ’ অনুমোদনের জন্য ছয়টি ডি-৮ সদস্য-এ যোগদান করেছে।

তিনি বলেন, কার্যকর ও স্থায়ী উন্নয়নের জন্য এখন ডি-৮-এর সদস্য দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে একে অপরের সহযোগিতা করা জরুরি।

‘জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরাম-সিভিএফের সভাপতি হিসেবে আমরা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর সাথে কাজ করে আনন্দিত হব।’ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসিনা বলেন, এই সমস্যাটি দেশের পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দিয়েছে।

‘আমরা শুরু থেকেই নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নিতে জোর দিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের তিন বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে, এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা আরও উদ্বিগ্ন যে সঙ্কট সমাধান না হলে এটি সে অঞ্চল এবং এর বাইরেও নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।’

এই বিষয়ে সমর্থনের জন্য ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ দেয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান আগমনেও বাংলাদেশ অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, গত বছর মহামারি ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

‘এটি অনুমান করা হয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের জিডিপির প্রায় এক শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যদি বর্তমান অবস্থা বজায় থাকে তবে আগামী দশকে এটি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য আমাদের এ বিষয়ে একত্র হয়ে কাজ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

কোভিড-১৯ মহামারী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহামারী শুরু হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ জিডিপিতে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশ অর্জন করেছিল। এমনকি মহামারি চলাকালীন দেশ জিডিপিতে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ৫.৪ অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ‘১.২৪ ট্রিলিয়ন টাকা মূল্যের একটি স্টিমুলাস প্যাকেজ চালু করা ছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিক্ষেত্রে এবং পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তায় আমাদের বিনিয়োগ কোভিড-১৯ এর বিরূপ অবস্থা কাটাতে ভূমিকা রেখেছে।’

এছাড়া, তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সর্বস্তরে তাদের সমান সম্পৃক্ততাও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই খাতে কর্মরত ৮৫ শতাংশেরও বেশি নারী যারা সমাজ ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

নারীরা রাজনীতির পাশাপাশি সকল পেশায় সক্রিয়। তারা বিদেশে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি যোগ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সকল স্তরে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।

‘আমরা মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করছি। উচ্চতর শিক্ষায় বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসইএসিও বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্ক নতুন এবং প্রচলিত বিষয়গুলির জন্য ৪টি আইআর এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থিতিশীল অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফর্মসহ একটি উন্নত ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। সূত্র : ইউএনবি