পর্ন ভিডিওতে ঠাসা ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের ফোন, বিয়ে নিয়েও অস্পষ্টতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, ০৭/০৪/২০২১

‘শিশুবক্তা’ খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। বক্তা হিসেবে আলোচিত এই ব্যক্তির ব্যক্তিজীবনও বেশ আলোচিত। তার মোবাইল ফোনে মিলেছে বেশ কিছু পর্নো ভিডিও; রয়েছে বিয়ে নিয়েও অস্পষ্টতা।

২৬ বছর বয়সী এই বক্তা বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয় । এরপর বিকেলে তার বিরুদ্ধে গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আনে মামলা হয়। হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব, তার মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, রফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তার ফোনে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে। আসমা বেগম নামের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেছেন বলে যে দাবি করেছেন তা নিয়েও নানা তথ্য পাওয়া গেছে। ওই নারীর সঙ্গে রফিকুলের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়নি। বিয়ে নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

‘শিশু বক্তা’ হিসেবে হঠাৎ পরিচিত হয়ে ওঠা রফিকুল ইসলাম কিছুটা অস্বাভাবিক খর্বকায়, বালকসুলভ চেহারা ও কোমল কণ্ঠস্বরের অধিকারী। তার নিজের ভাষ্যমতে, ‘১৯৯৫ সালে আমার জন্ম। কে বলছে আমি শিশু? আমার বয়স ২৬ বছর।’

র‌্যাবের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে। প্রাথমিকভাবে তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু পর্ন ভিডিও পাওয়া গেছে তার ব্যবহৃত ফোনে। এমনকি তার বিয়ে নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। আসমা বেগম নামে যে নারীকে বিয়ে করেছেন বলে তার যে দাবি, তা নিয়েও পাওয়া গেছে নানা তথ্য। সামাজিকভাবে রফিকুলের সঙ্গে বিয়ে হয়নি ওই নারীর।

এর আগে, গত ২৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছিলেন ‘শিশুবক্তা’ খ্যাত মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

Nagad

মুক্তির পর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি তখন বলেন, ‘আমি শুধু আপনাদের সমানে এসেছি একটা বিষয় জানানো জন্য যে, আমি এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। পল্টন থানায় কিছুক্ষণ ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কাউকে দেখানোর জন্য সেখানে (মতিঝিলে) যায়নি। আমি ইসলামী মূল্যবোধ থেকে…। যে মোদি বাংলাদেশে আসবে, তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে, লাল গোলাপের শুভেচ্ছা দেওয়া হবে, সেটা দেখতে একজন মুসলমান হিসেবে খারাপ লাগবে।’

রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণায়, থাকেন গাজীপুরে। তিনি নেত্রকোণার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক। রফিকুল ইসলাম রাজধানীর বারিধারায় মাদানী এভিনিউয়ের পাশে অবস্থিত জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন। এছাড়া তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গ সংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জেলার সহ-সভাপতি।

রফিকুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনায়। স্থানীয় স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হলেও পরে তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হন ও নূরানি, হেফজ পড়েন। এরপর আট বছর কিতাবখানায় পড়েন।

মাদ্রাসার ছাত্র থাকার সময় বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ করতেন রফিকুল। তিনি দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসায়। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গসংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জেলার সহসভাপতি। নেত্রকোনার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদ্রাসার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন ‘শিশু বক্তা’।

রফিকুলের নামের শেষে ‘মাদানী’ শব্দ যুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করেন, তাদের নামের সঙ্গে ‘মাদানী’ যুক্ত করা হয়। অভিযোগ, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেই নিজের নামের সঙ্গে ‘মাদানী’ শব্দ যুক্ত করেছেন তিনি।

এরই মধ্যে ‘মাদানী’ শব্দ প্রত্যাহার করতে রফিকুলকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফুল হাসান খান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই নোটিশ পাঠান।