নিউজিল্যান্ডে ব‍্যর্থতার দায় খেলোয়াদেরও: খালেদ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, ০৭/০৪/২০২১

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ায় কাঠগড়ায় হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তবে ডোমিঙ্গোকে একা কাঠগড়ায় দাড় করাতে রাজি নয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের নতুন নিযুক্ত ম্যানেজার সাবেক অধিনায়ক, বিসিবি পরিচালক এবং আবাহনী ও ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন।

তার ভাষ‍্য, ‘আমি তো ব্যক্তিগতভাবে জানি, রাসেল ভালো কোচ। এখন কাছ থেকে যখন আমি দেখব, তখন আরো ভালো বোঝা যাবে।’

তা বোঝার আগ পর্যন্ত দলের ব্যর্থতায় হেড কোচকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করার পক্ষপাতী নন মাহমুদ। বরং ক্রিকেটারদের পক্ষেও যে প্রয়োগক্ষমতার অভাবে কোচদের দুর্দান্ত পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া সম্ভব, মাথায় রাখছেন সেটিও।

মঙ্গলবার তিনি সংবাদমাধ্যমকে বললেন, ভালো পারফরম্যান্স শুধুই কোচের ওপর নির্ভরশীল নয়, ‘আমরা তো চিন্তা-ভাবনা করেই রাসেলকে নিয়েছিলাম। তিনি অবশ্যই ভালো কোচ। তবে পারফরম্যান্স কোচের ওপর নির্ভর করে না। এটি এমন একটি ব্যাপার, যা একে অন্যের পরিপূরক। পারফরম করতে হবে সবাই মিলে। খেলবে খেলোয়াড়রা, কোচরা না।’ টিম লিডার হিসেবে শ্রীলঙ্কায় মাহমুদের বিশ্লেষণী চোখ তাই খুঁজে ফিরবে ক্রিকেটারদেরও, ‘কোচ তো হাজার পরিকল্পনা দিতে পারেন। আপনি যদি মাঠে তা প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে ওই পরিকল্পনা দিয়ে লাভটা কী? সুতরাং কোচ পরিকল্পনা দিতে পারেন, অনুশীলন করাতে পারেন, কিন্তু ভালো খেলতে হবে খেলোয়াড়দেরই। আবার এমন যদি হয় যে খেলোয়াড়রা ভালো খেলছে কিন্তু পরিকল্পনা ভালো হচ্ছে না, তাহলেও আবার হবে না। যেটি বললাম, এটি আসলে পরিপূরক।’ এখন গলদ আসলে কোথায়, দলের সঙ্গে থেকে দুই টেস্টের সিরিজ দেখেই নিজের সেই মূল্যায়নপত্র তৈরি করবেন মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এখানে সমন্বয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। জানি না কেন এ রকম হচ্ছে, বারবার কেন হচ্ছে। কাজেই কাছাকাছি না মিশলে এ বিষয়ে মন্তব্য করা কঠিন।’

বাংলাদেশ দলের নতুন ম্যানেজার বলেন, ‘সাকিব নেই তাই এটা একটা বড় ইস্যু আমাদের জন্য। কারণ সাকিব থাকলে টিমের ব্যালেন্সে সুবিধা হয়। সাকিব থাকা মানে একটা ব্যাটসম্যান ও বাড়তি বোলার পাওয়া এবং সাথে একটা বাড়তি ব্যাটসম্যান ও বোলারকে আমরা খেলাতে পারি। তো সেখানে একটা প্রবলেম তো হতেই পারে।’

Nagad

কিন্তু বাস্তবতা মেনে নেয়ার পক্ষে খালেদ মাহমুদ। তিনি জানালেন, সাকিব-মাশরাফি-তামিমরা তো আর সারাজীবন খেলবে না। তাদের ছাড়াও তো দলকে এগিয়ে নিতে হবে। সে কাজটা এখন থেকেই না হয় শুরু হোক!

তিনি বলেন, ‘তবে আপনি সারাজীবন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, রিয়াদ বা মুশফিক তো বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলবে না। এক সময় মোহাম্মদ রফিক খেলতো, হাবিবুল বাশার সুমন ছিল, নাইমুর রহমান দুর্জয় খেলেছে, এখন খেলছে না। এক সময় এরাও ছেড়ে যাবে। তাই বলে বাংলাদেশ দল আটকে থাকবে না। চলতে তো হবেই!’

দলের সঙ্গে না থেকে গত কিছুদিন যা দেখেছেন, তাতে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের সব ক্রিকেটারকে একই সমান্তরালে দেখেননি মাহমুদ, ‘সবাই যেহেতু জাতীয় দলেরই প্রতিনিধিত্ব করছে, সবারই তাই সমান দায়িত্ব। এমন নয় যে তামিমের দায়িত্ব ১০০ আর লিটনের ১০ রান করা। তামিমের ১০০ হলে ওরও ১০০-ই হওয়া উচিত। আমি লিটনের নাম উল্লেখ করে বলছি, কিন্তু এ রকম অনেকেই আছে।’ নয় নয় করে জাতীয় দলে পাঁচ-সাত বছর পার করে দেওয়া একেকজনের কাছেও তাই সিনিয়রদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া পারফরম্যান্সের দাবি এই বিসিবি পরিচালকের, ‘কেন সিনিয়র ক্রিকেটাররাই সব দায়িত্ব নেবে? আপনি দলের অংশ হয়ে থাকলে আপনারও সমান দায়-দায়িত্ব। সুতরাং দায়িত্ব সবাইকেই নিতে হবে। এমন চিন্তা করা যাবে না যে নির্দিষ্ট কেউ ম্যাচ জেতাবে।

সারাদিন/৭এপ্রিল/এএইচ