রাজধানীতে বাস চলছে, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, ০৭/০৪/২০২১

মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দ্বিতীয় দফা লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু শিল্প-কারখানা-অফিস খোলা রাখায় কর্মজীবীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। এমন অবস্থায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন কর্মজীবীরা। এমন অবস্থায় আজ বুধবার থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশনের এলাকায় বাস চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।

বাস চলাচলে স্বাস্থ্য বিধি মানার শর্ত দেওয়া থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ ভাড়া নিতে ভূলছেননা বাস কন্ডাকটরা!

এ বিষয়ে চালক এবং চালকের সহকারীরা জানান, গত বছর করোনার সময় যাত্রীদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েছিল বাসের মালিকেরা। কিন্তু এবার যাত্রীদের সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়নি। এ নিয়ে যাত্রীদের অনেকেই আপত্তি তুলেছেন। বিষয়টি বাস মালিককে জানাব।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে না। ফলে একই হাতল এবং আসন ধরে প্রত্যেক যাত্রীকে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এভাবে একজনের হাতের জীবাণু খুব সহজেই অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে।

এদিকে সকালে দেখা যায়, স্কাইলাইন পরিবহনে একটি বাস মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনিস্টিউটের সামনে থামলে সেখানে দুইজন যাত্রী নামেন। এ সময় ওই জায়গা থেকে আরও দুইজন যাত্রী বাসে উঠেন। এই চারজন যাত্রীই বাসের ফটকের হাতল ধরে ওঠানামা করেন। কিন্তু তাদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হয়নি।

বাসের যাত্রী রুবেল হোসেন বলেন, সাধারণত বাসগুলো চলন্ত অবস্থায় যাত্রী ওঠানামা করে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্যেও যাত্রীরা হাতল বা আসন ধরে ধরে ওঠানামা করতে বাধ্য হয়। কিন্তু চালক ও চালকের সহকারীরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয় না। অথচ আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি রাখছেন তারা।

Nagad

এ সময় পরিবহনের চালক মাসুদের দাবি, তারা বাস থামিয়েই যাত্রী ওঠানামা করেন। কাল থেকে বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও ব্যবস্থা করবেন।

জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, প্রতিটি বাসেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকার কথা। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকাধীন সড়কে আগামীকাল (আজ বুধবার) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচল করবে।’

কাদের বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও জনসাধারণের যাতায়াতে দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার গণপরিবহনে চলাচলের বিষয়টি শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে পুনর্বিবেচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।’

গণপরিবহন চালানোর প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতি ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত এবং পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই সমন্বয়কৃত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লায় গণপরিবহন চলাচল যথারীতি বন্ধ থাকবে। ৭ এপ্রিল বুধবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’

সারাদিন/৭এপ্রিল/এএইচ