ঝড়ের গরম বাতাসে দুধভরা বোরো ধান শুকিয়ে চিটা!

খুলনা প্রতিনিধিঃখুলনা প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, ০৬/০৪/২০২১

কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পরে খুলনার কয়রা উপজেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোববার (৪ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড়ের পর দুধভরা ধান শুকিয়ে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।

ঝড়ে কয়রায় মহারাজপুর বিলের কয়েকশ বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হওয়ায় হারিয়ে গেছে কৃষকের মুখের হাসি।

প্রবাদে আছে, শিষ দেখলে বিশ দিন অর্থাৎ, ধান গাছের শিষ বের হওয়ার বিশ দিন পর ধান কাটা যায়। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর গরম ঝড়ো হাওয়ায় মহারাজপুর গ্রামের কৃষকদের আর বিশ দিন পর ধান কাটা হলো না।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিলের কয়েকশ বিঘা জমির বোরো ধানক্ষেত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সবুজের পরিবর্তে সাদা হতে দেখা গেছে। ঝড়ের বাতাস ছিল প্রচণ্ড গরম।

ওই বাতাস বিলের যে এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সে এলাকার দুধভরা ধান নষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন গরম বাতাসের কারণে এমনটি হয়েছে।

এরপর সোমবার (৫ এপ্রিল) সকালে কৃষকেরা তাদের জমিতে গিয়ে দেখেন সব ধান সাদা হয়ে গেছে। ক্ষেতের উঠতি বোরো ধানের শীষে যে গুলোতে কেবল মাত্র ‘দুধ’ এসেছে সেই ধানের শীষ সব চিটায় পরিণত হয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। যেসব জমিতে ধানের ফ্লাওয়ারিং হচ্ছে সে সব জমির ধান গরম বাতাসে পুড়ে গিয়ে সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। এতে উৎপাদনের প্রায় শতকরা বিশ ভাগ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Nagad

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশিদ বলেন, ধান গাছে শিষ বের হওয়ার পর দুধভরা অবস্থায় ৩৫ ডিগ্রির উপরে বাতাসের সঙ্গে তাপমাত্রা থাকায় ধানের শিষ নষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, বাতাসের সঙ্গে অতিমাত্রায় তাপমাত্রার কারণে দুধভরা শিষের ফুল পড়ে যাওয়ায় পরদিন রোদের তাপে সম্পূর্ণ শিষ শুকিয়ে গেছে।