লকডাউনের ২য় দিনেও অফিসগামী মানুষের ভোগান্তি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, ০৬/০৪/২০২১

লকডাউনে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় পোশাক শ্রমিক ও চাকরিজীবী মানুষ পড়েছেন বিপাকে। লকডাউনের দ্বিতীয়দিনও (৬ এপ্রিল ) রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অফিসগামী মানুষদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

চরম ভোগান্তির শিকার কর্মজীবীরা বাধ‍্য হয়ে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের পিছে ছুটছেন। দিচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়াও।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

মোহাম্মদপুরের আজিজ মোহল্লা থেকে রিকশায় করে ধানমন্ডি ৭ নম্বরে যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রাইহান খান নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি বলেন, অফিস খোলা রেখেই গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার মতো অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। গাড়ি চলছে না। তাই বাধ্য হয়েই রিকশায় যেতে হচ্ছে। কষ্ট যত আমাদের মতো কর্মজীবী মানুষদের।

রিকশার চাহিদা বেশি থাকায় রিকশাচালকরা ভাড়া বেশি নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রাইহান খানের। তিনি বলেন, আগে মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি ৭ এ যেতে ৬০ টাকা রিকশা ভাড়া লাগতো। এখন রিকশা চালকরা ১২০-১৫০ টাকাও চাইছেন। এতো বেশি ভাড়া দিয়ে কিভাবে যাবো

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামসুর রহমান মিরপুর ১ নম্বর থেকে পায়ে হেঁটে এসেছেন মিরপুর ১০ নম্বরে। সেখানে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে গুলশানে যাওয়ার কোনো যানবাহন পাচ্ছিলেন না।

Nagad

তিনি বলেন, সরকার অফিস বন্ধ না করে লকডাউন ঘোষণা করেছে। এভাবে কি সাধারণ মানুষকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা যায়?

তিনি বলেন, সোমবার আমার অফিস ছুটি হয়েছে বিকেল ৫টায়।

কিছুটা পথ অটোরিকশায়, কিছুটা পথ রিকশায় আবার কখনো পায়ে হেঁটে বাসায় পৌঁছেছি রাত ৯টায়। রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা যে যেভাবে পেরেছে ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে। এত দুর্ভোগের মধ্যে আমাদের অফিস করতে হচ্ছে।
সাবরিনা সুমি নামে আরেকজন মিরপুর ১০ নম্বর থেকে যাবেন ফার্মগেটে। এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরে কোন পরিবহন না পেয়ে রিকশাযোগে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালক মো. সোহেল বলেন, অফিসগামী মানুষ যে যেভাবে পারছে সেভাবে অফিস যাচ্ছে। কেউ রিকশা, কেউ মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লকডাউন ঘোষণার আগেই রাইড শেয়ারিং বন্ধ করেছে সরকার। কী করবো বলেন? রাইড শেয়ারিং করে যে কয় টাকা উপার্জন হয় তা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় না বের হলে তো না খেয়ে থাকতে হবে। লকডাউনে পুলিশ মোটরসাইকেল ধরলেই হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার মামলা দেয়। এ কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি।

সারাদিন/৬এপ্রিল/এএইচ