যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের ছয় বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ, ০৬/০৪/২০২১

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের উপকণ্ঠের একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার (৫ এপ্রিল) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ওই পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে দুই ভাই, এক বোন, তাঁদের মা-বাবা ও দাদি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠজনের বয়স ১৯।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত নিহতের ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত দুই ভাই এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন।

পুলিশ সার্জেন্ট জন ফেল্টি বলছেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে তাঁরা গুলিতে নিহত হয়েছেন। মনে হচ্ছে, দুই ভাই আত্মহত্যা করেছেন এবং এর আগে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছেন।’

পুলিশ আরও জানায়, ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, পরিবারটির কোনো সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে যায়।

পুলিশের বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানায়, নিহত ব্যক্তিরা বাংলাদেশি অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

Nagad

কেভিন পাটেল (২৮) নামক এক প্রতিবেশী জানান, তাদের বিষয়ে খুব বেশি জানতাম না। তবে তারা সুখী পরিবার ছিল বলেই মনে হতো। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় কাজ থেকে ফিরেই দেখি পুলিশের উপস্থিতি। অবাক হয়েছি ঘটনা জেনে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের সেক্রেটারি নাহিদা আলী হতাশার সাথে জানান, এমন সংবাদে সকলেই হতভম্ব। শোকাচ্ছন্ন গোটা কমিউনিটি। তৌহিদুল ইসলাম (৫৬) খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার স্ত্রী আইরিন ইসলাম নীলাও (৫৫) আসতেন কমিউনিটির অনুষ্ঠানে। সব সময় তারা দুই পুত্র তানভির তৌহিদ (২১) এবং ফারহান তৌহিদ (১৯) কে নিয়ে উচ্ছ্বাস করতেন। একইভাবে মেধাবী কন্যা পারভিন তৌহিদকে (১৯) নিয়েও তার অহংকারের শেষ ছিল না। পারভিন পড়তেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। সপ্তাহখানেক আগে তাকে নিউইয়র্ক থেকে বাসায় নেয়া হয়। ফারহান গত বছর ভর্তি হয়েছিলেন অস্টিনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে। তানভিরও পড়তেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অস্টিনে। তার এবারই গ্র্যাজুয়েশনের কথা। তবে ফারহান আর পারভিন ছিলো যমজ। এমন একটি পরিবারের সকলেই একইসাথে নিঃশেষ হয়ে যাবে-এটি কল্পনারও অতীত ছিল। সাথে তৌফিকের শাশুড়ি আলতাফুন্নেসাকেও (৭৭) মৃত্যুবরণ করতে হলো।

গত সপ্তাহেই আলতাফুন্নেসার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। করোনা জটিলতায় তিনি সফর স্থগিত করেছিলেন। নাহিদা জানান, পুলিশী তদন্ত শেষে লাশগুলো পেলে যদি ঐ হতভাগা পরিবারের কোন স্বজন দায়িত্ব না নেন তাহলে আমরা এসোসিয়েশনের উদ্যোগে দাফনের পদক্ষেপ নেব। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

জানা গেছে, তৌহিদুল ৮ বছর আগে টেক্সাসের এই সিটিতে বসতি গড়ার আগে নিউইয়র্কে বাস করতেন। তার দেশের বাড়ি ছিল পুরনো ঢাকায়। সর্বশেষ তিনি টেক্সাসে সিটি ব্যাংকে চাকরি করতেন।

সারাদিন/৬ এপ্রিল