ভোটারদের ইভিএম ভোটে স্বাচ্ছন্দ্য

বিশেষ প্রতিনিধিবিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, ৩০/০১/২০২০

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) পরীক্ষা মূলক ভোট দিয়ে ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্য। তবে এই পদ্ধতিতে ভোটের বিষয়ে কেউ কেউ জটিলতার মধ্যেও পড়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কিভাবে
ঢাকার দুই সিটি উত্তর ও দক্ষিণ করপোরেশন নির্বাচন শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি)। এর আগে পরীক্ষা মূলক (মক) ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি)। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুই সিটির সব ভোটকেন্দ্রে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

রাজধানীর মানিক মিয়া এ্যাভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটে ভোটার ও উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। দুপুরের পর থেকে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের আনাগোনা বাড়ে। ইভিএম সম্পর্কে ভোটারদের পরিচিতি ও মক ভোটের জন্য হিমশিম খেতে হয় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের।

মক ভোট দেয়া শেষ পশ্চিম রাজাবাজারের বাসিন্দা মো. মাহবুব আলম বলেন, ভোট দেয়া অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যের। সিল ও ব্যালটের চেয়ে সময় কম লাগে। মিনিট খানেকের মধ্যেই ভোট দেয়া শেষ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, আঙ্গুলে চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার ছবি বের হয়েছে। তারপর বাটনে চেপে ভোট দেয়া নিশ্চিত করেছি। আমার কাছে সকল প্রক্রিয়াই সহজ মন হয়েছে।

আরেক ভোটার সাহাবুদ্দিন আহমেদ বললেন, ইভিএমে ভোট সহজ থাকলেও যারা অল্প শিক্ষিত তারা কতোটুকু এই মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে শিখতে পারবে সেটা একটা বিষয়।

রাজধানীর নূরজাহান রোডের মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোট দেওয়া কায়সার চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ে ভোট দেওয়া যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম নির্দেশন হলো ইভিএম। কোনো ভোটার যদি স্মার্ট কার্ড নাও আনেন ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে সেটা শনাক্ত করা যাবে আর স্মার্ট কার্ড আনলে ভোটিং প্রক্রিয়া আরো সহজ।

রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৬৩ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ইভিএমে ভোট সম্পর্কে জনগণ যেন সচেতন হয় এবং ইভিএম মেশিনে যেন অভ্যস্ত হয় সেজন্যই এই অনুশীলনমূলক (মক) ভোট। যারা ইভিএম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা মক ভোট দিতে আসুন, আপনার কোনো সন্দেহ থাকলে এখানে ভোটিং প্রক্রিয়ার টেস্টে অংশ নিন, যে কোন রকম সন্দেহের অবকাশ দূর হবে। কেন্দ্রে না এসে বাইরে থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। যে কোন যাচাই বাছাইয়ের জন্য মক ভোট দিতে আসুন, সব কিছু যাচাই করুন।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ও ডিএসসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম বলেন, ভোটারদের সচেতন ও ইভিএমে অভ্যস্ত করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। এটি পরীক্ষার আগে টেস্ট পরীক্ষার মতো, যাতে ভোটের দিনে ভোটারদের কোনও ধরনের বেগ পেতে না হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুই সিটির সব ভোটকেন্দ্রে ইভিএম প্রদর্শনী করা হয়েছে। ভোটারদের ইভিএমে ভোটদানে আগ্রহী ও সচেতন করতে এ আয়োজন করে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সরস্বতী পূজার কারণে নতুন করে ভোটের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করায় আজ মধ্যরাতে প্রচারণা শেষ হচ্ছে। এদিন থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনও ব্যক্তি জনসভা বা কোনও অনুষ্ঠান আহ্বান, এসবে যোগদান কিংবা কোনও মিছিল, শোভাযাত্রা করতে পারবেন না।

ঢাকার দুই সিটিতে দুই সিটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ২ হাজার ৪৬৮টি। এর মধ্যে উত্তরে ১ হাজার ৩১৮টি এবং দক্ষিণে ১ হাজার ১৫০টি।

দুই সিটিতে ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৫৪ লাখ। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ এবং দক্ষিণে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। উত্তরে সাধারণ ওয়ার্ড আছে ৫৪টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি এবং দক্ষিণে সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি।

সারাদিন/৩০জানুয়ারি/টিআর