মানিকগঞ্জের ঘিওরে ইউএনও’র গাড়ীতে হামলা

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতামানিকগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ণ, ৩০/০১/২০২০

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সময় হামলায় ইউএনও-র গাড়ীতে অভিযান চালাতে যাওয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের চারজন আহত হয়েছেন।এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।

হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলা ত্রাণ শাখার অফিস সহায়ক ইলিয়াস হোসেন, উপজেলা তথ্য অফিসের অফিস সহায়ক ফরিদ মিয়া, ইউএনও’র গাড়ির চালক এনামুল হক ও নৈশপ্রহরী শাহ আলম। এদের মধ্যে ফরিদকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমান আদালত এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার জন্য ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তারের নেতৃত্বে ইলিয়াস হোসেন, ফরিদ মিয়া, এনামুল হক ও শাহ আলম উপজেলার উত্তর তরা এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত জানতে পারেন, কেল্লা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পর বিকেলে পাঁচটার দিকে সেখানে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অবৈধ বালুব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত মো. শরিফ, খোরশেদ আলম, মো. টুটুল, মোহাম্মদ আলীসহ ৫০-৫৫ জন দেশিয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে হামলা করেন। এতে উপজেলা প্রশাসনের ওই চার কর্মচারী আহত হন। এ সময় ইউএনও’র গাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

ঘিওর উপজেলার ইউএনও আইরিন আক্তার বলেন, কালীগঙ্গা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী এ বিষয়ে অভিযোগও করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বানিয়াজুরী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় যান। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁকে মুঠোফোনে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি জানালে তিনি পাশের কেল্লা এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নৈশপ্রহরী শাহ আলম বাদি হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। মামলা অজ্ঞাত আরও ৫০-৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আসামিদের প্রেপ্তারে অভিযান চলছে।