বিষাক্ত সাপের মাধ্যমেই ছড়ায় করোনাভাইরাস, মুক্তির উপায় কি!

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ণ, ৩০/০১/২০২০

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে  মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে – তাতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে এ ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল শুধু চীনের উহান শহরেই মারা গেছে ১৬২ জন। বাকিরা চীনের অন্যান্য শহরের অধিবাসী। এছাড়া পুরো চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৭০০০ জনে। উহান শহরে এ সংখ্যা ৪৫৮৬ জন। তবে ক্রমেই এর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে গোটা চীনের সর্বত্রই। কিন্তু অনেকের মনের প্রশ্ন কিভাবে ছড়ায় এই প্রাণঘাতী ভাইরাস।

মেডিকেল জার্নালের বরতে জানা যায়, ভাইরাসটি কোন বিষাক্ত সাপ থেকে মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে ছড়াতে আবার নিজের জিনগত গঠনে সবসময় পরিবর্তন আনছে – যাকে বলে মিউটেশন।

বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে, প্রত্যেকটি প্রাণীর জন্য আলাদা আলাদা ঠান্ডা লাগে। যেমন গরু ও ছাগল অন্যান্য প্রাণীর ঠান্ডা লাগে। তাদেরও আরেক গ্রুপের করোনাভাইরাস আছে। তাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন করোনাভাইরাস তাদেরকে আক্রান্ত করে। কিন্তু এখন যেটি হয়েছে এটি কীভাবে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

চিকিৎসাবিদদের সূত্রে জানা গেছে, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে একটা মার্কেট আছে। সেই মার্কেটটা সি-ফুড মার্কেট নামে পরিচিত। সেখানে মাছ, মাংস সহ সব কিছু পাওয়া যায়। অন্যান্য জিনিসপত্রও হাঁস-মুরগীও বিক্রি বিক্রি হয়। এখন কথা হচ্ছে, এরমধ্যে যখন এনালাইস করা হয়েছে ভাইরাসটাকে নিয়ে। তখন একজন অসুস্থ মানুষের শরীর থেকে নিয়ে সেই ভাইরাসের সাথে যেটার মিল পাওয়া গেছে, সেটা হচ্ছে সাপকে আক্রান্ত করে যে করোনাভাইরাস, সেই করোনাভাইরাসটি সেই মানুষের সাথে মিল পাওয়া গেছে। তার মানে এটা সাপের মাধ্যমে মানুষের কাছে এসেছে। মানে ওখানে সাপও বিক্রি করা হয়। যেহেতু সেখানে সাপের করোনাভাইরাসের সাথে এটার মিল পাওয়া গেছে।

এখন কথা হচ্ছে, সাপকে এই ভাইরাস ধরার কথা, মানুষকে কেন আক্রমণ করেছে, তার মানে ওখানে এতদিন সেই ভাইরাস ছিল, মানুষ ও সাপের মধ্যে একই। মানুষকে আক্রান্ত করার জন্য সাইটটা সামহাউ সাপের করোনাভাইরাস অ্যাকোয়ার্ড করছে। এখন মানুষের নাকের মাধ্যমে শ্বাস-নিঃশ্বাসের মাধ্যমের এই ভাইরাস মানুষের স্বরীরে চলে আসে।

দেখা গেছে, যখন অ্যাটাক করে তার সাত আট দিন কোন লক্ষণ থাকে না। তখন একেবারে নরমাল থাকে। ৭-৮ দিন পর থেকে তার ঠান্ডা লাগা শুরু করে। তখন থেকে তার জ্বর লাগা শুরু হয়। এই জ্বর ঠান্ডা থাকে আরও এক সপ্তাহ। তারপরে তার আসে নিউমোনিয়া। আর নিউমোনিয়া জিনিসটা হল লাঞ্চের ইনফেকশন।

ঠান্ডা লাগা মানে হচ্ছে শ্বাস নালীর ইনফেকশন হচ্ছে। এটা উপরের দিকের শ্বাসনালী নিচের দিকে যখন ইনফেকশন টা হয়, সেটা হচ্ছে লাঞ্চ ইনফেকশন আর সেটি হচ্ছে নিউমোনিয়া। আর নিউমোনিয়া যখন হয় তখন কি করবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটার কোন টিটমেন্ট নেই। আমরা শুধু সাপোর্ট দিয়ে যাই। জ্বর হয়েছে জ্বর কমাবো। তার শরীর থেকে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে তা পূরণ করব। যখন নিউমোনিয়া হয়, তখন আমরা কি করব? তাকে নিউমোনিয়ার জন্য সাপোর্ট দিব।

CORONAVIRUS

 

নিউমোনিয়ার জন্য সাপোর্ট কি শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন দিব। বেশি যদি শ্বাস নিতে না পারে ভেন্টিলিটার দিব আর্টিফিশিয়াল লাইফ সাপোর্ট যেটাকে বলে। এরপর দেখা গেছে, এই নিউমোনিয়াটা আরও খারাপ দিকে যায়। সেটাকে বলা হয় এআরটিএস। মৃত্যুর কারণ এই এ আর ডি এস ( একিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিণ্ড্রোম )। এটা হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর।

এটা সাধারণ মানুষদের হলে তারাও যে কোন সময় মারা যেতে পারে। আমাদের দেশে প্রচুর বয়স্ক লোক নিউমোনিয়া হয়ে মারা যায়। আর এটা তো হলো নতুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। যেহেতু অর্জন করতে পারেনি আস্তে আস্তে করবে যাদের ইনফেকশন হচ্ছে, তাদের আবার ভালো হয়ে যাচ্ছে। যারা ভালো হয়ে যাচ্ছে তাদের আবার করোনাভাইরাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে যারা মারা গেছে, তারা তো মারা গেছে। ১০০ জনকে অ্যাটাক করলে এর মধ্যে ৮৫ জন ভালো হয়ে যায়। আর ১৫ জন মারা যাচ্ছে।

ভ্যাকসিন কি আবিষ্কার হয়েছে?

এই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য কাজ করছেন দুটি কোম্পানি। একটার নাম আইনিক আরেকটার নাম হচ্ছে জনসন এন্ড জনসন। জনসন এন্ড জনসন বলছে তাদের ৮ থেকে ১২ মাস সময় লাগবে। আরেকটা কোম্পানি বলেছে ৩ মাস সময় লাগবে।

বাঁচার উপায়

পুরো উহানকে এখন আবদ্ধ করে ফেলেছে চীন সরকার । এটা খুব ভালো উদ্যোগ। সেখানে তারা এখন কেউ কাউকে যেতে দিবে না, বা আসতে দেবে না। তারা ঢুকতে পারবে না আবার আসতে পারবেনা। এটা কি মানুষের ক্ষেত্রে মেইনটেন করা সম্ভব? ওই জায়গাটা তো বিশাল তাদের অনেকে হয়তবা এসব সম্পর্কে কিছু জানেও না। সাধারণ মানুষ হয়তোবা জানে না তারা তো আসা-যাওয়া করবেই। এর মধ্যে অনেকেই তো চলে গেছে এবং ঢুকছে।

হিসাব করে দেখা গেছে, যদি ওখানে থেকে কেউ বের হতে পারবে না বা কেউ ঢুকতে পারবে না এটা যদি ৯০% সফলভাবে তারা করতে পারে তাহলে মোট ১৫০০ মানুষ মারা যেতে পারে। যদি না করতে পারে। আর যদি ফিফটি পার্সেন্ট সফলভাবে তারা আটকাতে পারে বা সেখানে প্রবেশ করতে না করতে দিতে পারে, তাহলে এক লাখের উপরে লোক মারা যাবে। এটাই হচ্ছে ভয়াবহতা।

করণীয়:

করোনা সার্স ভাইরাসের চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয় নাই। সিম্পটম্যাটিক চিকিৎসা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অকার্যকর

রিবাভিরিন – স্টেরয়েড কম্বিনেশন ইউজ করা যেতে পারে। করোনা সার্স প্রতিরোধের প্রধান চিকিৎসা সবসময় মাস্ক ব্যবহার করা জরুরী। সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ।

সন্দেহ জনক সার্স আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগ যেমন, জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

যেসব দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে সেসব দেশ ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকা অথবা যারা ঐ সব দেশ থেকে আসে, তাদের ভালো করে পরীক্ষা করা ও চিকিৎসা করা

গ্লোবালাইজেশনের যুগে রোগ পৃথিবীব্যাপি ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে না। তাই সবার সচেতনতাই পারে এই করোনা ভাইরাস ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে সবাইকে রক্ষা করতে।

সারাদিন/৩০ জানুয়ারি/আরটি/আরটিএস