নীলফামারীতে- হুক্কা টেনে খুদা নিবারন করেন বৃদ্ধা দুই নারী

নীলফামারীর দুই বৃদ্ধা বয়স ৮০ বছর ছুঁই ছুঁই। নীলফামারী জেলা শহর থেকে উত্তরে ৮ কিলোমিটার দুরে তাদের বাড়ী। পেটের ক্ষুদা নিবারনের জন্য ভাত মাছ না খেলেও দিন কাটে তাদের। তাদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে প্রিয় নেশা গ্রামের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়া হুক্কা।

সারাক্ষন হুক্কা খেয়ে ক্ষুদা নিবারন করেন তারা। হুক্কার পরিচিতি সম্পর্কে যা আমরা জানি- হুক্কা আকারে এক ফুট লম্বা, হুক্কা তৈরীতে লাগে একটি আঁশ ছাড়া নারিকেল, আট ইঞ্চি লম্বা কাঠের ডিজাইন করা গোলাকার, শেষ মাথায় মাটির তৈরী স্লিম।

সেই স্লিমে দেওয়া হয় গুরো করা তামাক পাতা ও কিছু মিষ্টি গুর। সেই স্লিমে আগুন ধরিয়ে আঁশ ছারা নারিকেলের ডাবে পানি দিয়ে একপার্শ্বে ছিদ্র করে ধুই হাত দিয়ে চেপে ধরে মুখ লাগিয়ে টানতে থাকেন।

প্রতি টানে গড়গড় শব্দের আওয়াজ বইতে থাকে ও কালো ধোঁয়া উড়তে থাকে। সেই আঁওয়াজ এতই সু-মধুর যে পাশ দিয়ে কেউ হেটে গেলে দাঁড়িয়ে দেখতে ইচ্ছে হয় তাদের খাবারের দৃশ্য।

দুই বৃদ্ধা হলেন নীলফামারী সদরের লক্ষীচাপ ইউনিয়নের সহদেব বড়গাছা গ্রামের মৃত-গাঠিরামের স্ত্রী সনেকা বালা(৭৯) আরেকজন মৃত-উপেন্দ্রর স্ত্রী ননী বালা(৭৮)।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে সনেকা বালার সাথে কথা হলে তিনি বলেন- ‘‘মোর স্বামী মরি গেইছে দশ বছর আগত। এখন মোর দুই বেটা এক বেটি। ঔগিলাক বিয়া দিয়াছু।

মোক ভাত কাপড় কাহোয় দেয়না। মাইনসের বাড়ীত কাম করি খাও। ক্ষিদা নাইগলে হুক্কা টানো, হুক্কা হইলে মোর ভাত নাগেনা। ভাত ছারা মুই হুক্কা টানিয়া দুই তিন দিন থাকির পাও। দুই তিনদিন পর ভাত খাও।’’

ননী বালা বলেন- ‘‘মোর স্বামী মইরছে এিশ বছর আগত, মোর এক বেটা তিন বেটি। সবাইক বিয়া দিছু। কেই মোক খোয়ায় না। মুই নিজে এই বয়সে মাইনসের বাড়ীত কামলা দিয়া খাও।’’

সারাদিন হুক্কা খাও, আইত হইলে চাইট্টা ভাত জুটিলে খাও, নাহিলে না খাও। মোর হুক্কা হইলে কিছু নাগেনা। হুক্কা টাইনলে মোর পেট ভরি যায়। দশ টাকার তামাকের আলোয়া পাতা ও পাঁচ টাকার গুর কিনলে হামার দুইজনকার তিন দিনের হুক্কা টানা হইয়া যায়।

এ বিষয়ে লক্ষীচাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- আমি ওই দুই বৃদ্ধা নারীকে বিধবা ভাতা করে দিয়েছি। তাছাড়াও বিভিন্ন ভাবে আমি তাদেরকে সহযোগিতা করে থাকি। তারা এই অঞ্চলের গ্রামের ঐতিয্য হুক্কা টানা নেশা হিসেবে ধরে রেখেছেন। তারা ৬০ বছর থেকে হুক্কা টানেন।

সারাদিন/২৮জানুয়ারি/টিআর