‘দেশের কথা চিন্তা করে আমি চীন ছাড়বো না’ (ভিডিও)

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, ২৮/০১/২০২০

চীনে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১০৬ জনে। আর উহান প্রদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশে ফেরতে চাচ্ছেন। এদিকে বাংলাদেশিদের দেশে ফিরাতে বেইজিংকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু এর মাঝেই দেশে ফিরতে চান না বাংলাদেশী প্রবাসী বর্ণ সিদ্দিকী।

এ সম্পর্কে চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বাংলাদেশী প্রবাসী বর্ণ সিদ্দিকী সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, ‘দক্ষিণ–পশ্চিম চীনের কুনমিং নগরী এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা কেউই ভালো নেই। এখানকার সরকার খুবই ভালো। যদি আমার মধ্যে এরকম অসুখ হয় তবে সরকার বিনামূল্যে আমাদের চিকিৎসা করাবে। চীনের সরকার থেকে আজ শুনলাম যে কাউকে দেশের বাইরে যেতে দিবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে ও দেশের মাটির জন্য আমি আমার মাতৃভূমিতে যাবো না। চীনে আমরা শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও হাজার হাজার বাংলাদেশী আছেন। আমি যদি বাংলাদেশে যাই তবে তারাও যেতে চাইবে। এতে লাভ হবে না। বরং এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়বে। তবে আমার মধ্যে এধরণের কোনো রোগ নেই।’

বর্ণ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যেতে চাই না। কারণ বাংলাদেশের সরকার আমাকে নিবে। কিন্তু আমার ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করবে না। তাই বাংলাদেশে যাওয়ার পক্ষপাতি নই আমি। আর সেখানে যেয়ে আমার যদি খারাপ অবস্থা হয়, তবে তো আমার পরিবারের মধ্যেও এসব ছড়াবে। এটা ভাইরাস জনিত রোগ। আর কারো সাথে থাকলেই এই রোগের বিস্তার ঘটবে। আমার বাবা-মা যতই বলুক। আমি সেখানে যাবো না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহরে এখানে ছোট দুই টুকরা রসুনের দাম বাংলাদেশী টাকায় ৮০ তে বিক্রি হচ্ছে। পেয়াজ তো খুজেই পাচ্ছিই না। শাক সবজির দাম অনেক বেড়েছে। আমরা বিস্কুট ও লুডুস খাচ্ছি। তবে আমি মুসলিম তাই বাজারে মুসলিম খাবার খুজতে সময় লাগছে।’

প্রবাসী এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘বড় দিন উপলক্ষ্যে ছুটির পর থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা খুবই আতঙ্কিত অবস্থা রয়েছি। চীনের সরকার বেইজিং এ ৬ দিনের মধ্যে একটি হাসপাতাল তৈরি করে ফেলছে। আরেকটি প্রদেশেও হাসপাতাল তৈরি করছে। ইতিমধ্যে এই অসুখের প্রতিষেধক ওষুধ তৈরি করে ফেলেছে।’

‘এই অসুখ নাকি শরীরে পৌছার ১৪ দিন পরে ধরা যায়। তাই আমি আমার দেশের স্বার্থে বাংলাদেশে যাবো না। তবে এখানকার প্রবাসী ১৬টি দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের দেশে যেতে চাচ্ছে। পাকিস্তানও তাদের শিক্ষার্থীদেরকে নেওয়ার জন্য একটি ইন্ট্রি স্থাপন করেছে। তবে আমি কুনমিং সিটিতে আছি। ’ যোগ করেন তিনি।

তবে উহান শহরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ছাড়বে না চীন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানায়।

এছাড়া উহান শহরে তিনশ’রও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আটকে থাকে। এরা সবাই উহান শহরে যার যার ছাত্রাবাসের রুমের ভেতরে প্রায় বন্দী অবস্থায় আছেন।

উহান শহরে থাকা ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের খাবার ফুরিয়ে আসছে, আতঙ্ককিত উহান নগরীতে এখন তাদের দিন কাটছে দেশে ফেরার প্রতীক্ষায়। আটকে পড়া উহান শহরের শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা দেশে ফিরতে চাই।

তবে বিবিসি জানাচ্ছে, নতুন করে এক হাজার ৩শ’ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে দ্য ডন এমন খবর প্রকাশ করেছে।

দেখুন ভিডিও:

সারাদিন/২৮জানুয়ারি/টিআর