তিন দশক আমরা শিক্ষা খাতে অনেক পিছিয়ে পড়েছিলাম: শিক্ষামন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, ২৬/০১/২০২০

শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দিপু মনি বলেন, তিন দশক আমরা শিক্ষা খাতে অনেক পিছিয়ে পড়েছিলাম। আসলে তারা আমাদের দেশকে পিছিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পরে শিক্ষা খাতে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই ১০ বছরে তিনি এই খাতে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাই আমাদের শিক্ষার্থীকে এই খাতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) ১৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দিপু মনি একথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা চাকরী খুঁজবেন না। আপনাদের উদ্যোক্তা হতে হবে। তবে লেগে থাকতে হবে। তবেই সাফল্য আসবে। কিন্তু দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা আজ যা অর্জন করেছেন তার মূল্য অনেক। এই যাত্রা পথে আপনারা যা কিছু করেছেন এবং সময়ের সাথে আপনারা যা শিখেছেন, সেগুলিই আপনাদের ভবিষ্যতের পথ সুগম করবে। এটি আপনাদেরকে ভবিষ্যতে আরও উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে। শুধু তাই নয় আপনাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য আপনাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। সুতরাং আপনাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি যে আপনারা এটা অর্জন করতে পেরেছেন।

দিপু মনি আরও বলেন, আপনাদেরকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আরও ভালো সুযোগ তৈরি করে নিতে হবে। এআইইউবি আপনাদেরকে প্রয়োজনীয় সব কিছুর সরঞ্জাম দিয়ে সব কিছু আগেই আপনাদের শিক্ষা দিয়েছে। আর এখান থেকে আপনারা যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং ইতিহাস তৈরি করার জন্য অ্যাটিচিউডও শিখেছেন, সে অনুযায়ী পথ চলবেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যাকে জলসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার যুগোপযোগী মানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্বশীলতার সাথে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর এই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যাম্পাসে গঠনমূলক পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুযোগ্য নাগরিক ও আলোকিত মানুষ গড়ে তোলা হোক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্রত। এক্ষেত্রে সরকার সবধরনের সহযোগিতা করবে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০১০’ এর নিয়ম নীতি মেনেও চলতে হবে।

সমাবর্তনে বক্তব্য রাখছেন এআইইউবি’র ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মিসেস নাদিয়া আনোয়ার। ছবি : এআইইউবি

তিনি বলেন, আমি অবাক হয়েছি, ঢাকার মধ্যে এআইউবির এতো বড়, সুন্দর ও আধুনিক একটি ক্যাম্পাস দেখে। যেটি অনেক বছর ধরেই শিক্ষার মান বজায় রেখেই শিক্ষিত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখছে। এআইইউবির আধুনিক শ্রেণীকক্ষ, ল্যাব, অত্যাধুনিক আইওটি ডিভাইস এবং বৃহত্তম ভার্চুয়াল ল্যাব সেটআপ, স্পোর্টস কমপ্লেক্স দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। এআইইউবির একাডেমিক প্রোগ্রাম আপডেট করা, যা বিভিন্ন লেবেলে সব জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উভয় স্বীকৃতি অর্জন করেছে। যা সত্যি ভালো লাগার বিষয়।

এসময় বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমার সামনে প্রায় চার হাজার ৫০২ জন শিক্ষার্থী কালো গাউন এবং ক্যাপ পড়ে আছেন, যা দেখতে সত্যিই ভালো লাগছে। এ যেন এক মহা-মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ক্যাম্পাস।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার সময় স্বাক্ষরতা করে গিয়েছিলেন ৬৫ ভাগ। সেই স্বাক্ষরতা তৎকালীন সরকার করেছিলেন ৫০ ভাগের নিচে। আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বাক্ষরতাকে তুলে টেনে ধরেছেন। এখন আমাদের স্বাক্ষরতা হচ্ছে ৭৪ ভাগ।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে গত ১১ বছরে শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা আমরা বজায় রাখতে চাই। বর্তমান সরকার আরও জোড়ালো ভাবে কাজ করছে উন্নত শিক্ষিত জাতি গঠনে। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সরকার এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বারোপ করছে। তার প্রমাণ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। সব সুযোগ সুবিধা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রকৃত জ্ঞান নিয়ে বের হচ্ছে। তারা বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। এটা গর্বের বিষয়।

নওফেল বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আপনাদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে নিত্য নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই দেশেই অনেক বিদেশী কাজ করছে। কারণ আমাদের শিক্ষার্থীরা সে কাজে প্রশিক্ষণ নিতে পারেনি। বিদেশ থেকে এসে যারা কাজ করছে তারা উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে টেকনিক্যাল যোগ্যতা নিয়ে কাজ করছে। উচ্চ শিক্ষা নিতে অনার্স, মাস্টার্স, সাধারণ শিক্ষা সব প্রয়োজন আছে। পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের জন্য হাতে কলমে কাজ শেখার জন্য সরকার দেশে অনেক সুযোগ তৈরি করছে। দেশের বহু প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হাতে কলমে কাজ শিখেছেন, করেছেন। আপনারাও সেরকম প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের আরও আলোকিত করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, এটা সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই ক্যাম্পাসটি সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। যাতে এই সকল গ্রাজুয়েটরা পড়েছেন। আশা করবো আরো ভালো জায়গায় আপনারা আপনাদের কাজ করতে পারবেন।

এসময় বক্তব্য রেখেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এআইইউবি’র ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মিসেস নাদিয়া আনোয়ার, এআইইউবি’র উপাচার্য ড. কারমেন জেড ল্যামাগনা সহ প্রমূখ।

এদিকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮ -১৯ এর বিভিন্ন অনুষদের ৪৫০২ জন ছাত্র-ছাত্রীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক ৬টি, ডা. আনোয়ারুল আবেদীন লিডারশিপ পদক-৩৯টি, ভাইস চ্যান্সেলর পদক-৪০টি, সুম্মা কুম লাউ-ডে-১৪৬টি, মেঘনা কুম লাউ-ডে২৩৬টি, কুম লাউ ডে ৮১টি সম্মাননা পদক শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রদান করা হয়।

সারাদিন/২৬জানুয়ারি/টিআর