শূন্য থেকে এসে আস্তে আস্তে গড়ে তুলেছি স্নোটেক্স গ্রুপ: এস এম খালেদ

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, ২৫/০১/২০২০

উত্তরায় নিজ আউটলেটে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সাথে কথা বলছেন স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ।

হঠাৎ করেই গার্মেস ব্যবসায়ে আসা। কারণ ২০ বছর আগে আমাদের সেক্টর বলতে এই একটাকেই বুঝাত। এখন কিন্তু না। তখন আর তো কিছুই ছিল না, তাই আমাদের আসতেই হয়েছে। সংসার চালানোর তাগিদে এসেছি। একদম শূন্য থেকে এসে আস্তে আস্তে গড়ে তুলেছি স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেডে। কথা গুলো বলছিলেন রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ। যিনি তৈরি পোশাকশিল্পে দুই যুগ ধরে কাজ করছেন। নিজস্ব ব্র্যান্ড হিসেবে ‘সারা’ লাইফস্টাইল লিমিটেডে যাত্রা শরু করেছে।

ব্র্যান্ড হিসেবে ‘সারা’র যাত্রা এবং এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন সারাদিন ডট কম-এর সঙ্গে। সেখানেই অকপটে নিজের উঠে আসার গল্পগুলো বলছিলেন।

খালেদ বলছিলেন, শুরুটা প্রায় এখন থেকে বিশ বছর আগে। ছোট সাপ্লাইয়ের ব্যবসা। তারপর ছোট বায়িং হাউস। এরপর ছোট একটা ফ্যাক্টরি ১২-১৩ বছর আগে। পর্যায়ক্রমে আরো একটা ফ্যাক্টরি। গত ৫-৬ বছর আগে মোটামুটি একটা ফ্যাক্টরি ধামরাইয়ে। এখন আমরা প্রায় ১১ হাজার ফ্যামিলি মেম্বার। আগামী বছর শেষে এটা প্রায় ১৮ হাজার হবে। এটা অব্যহত থাকবে।

গার্মেন্ট ব্যবসা ও সারা ব্র্যান্ড নিয়ে তরুণ এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছিলেন, আমরা গার্মেন্ট সেক্টরে দেখতে দেখতে ২০ বছর কাটালাম। এখন আমরা মাঝেমধ্যে প্রতিযোগিতায় পড়ি। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমরা ডিফিকাল্ট সময়ের মধ্যে যাব। কারণ কোনো এক সময় আমেরিকাতে অনেক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ছিল। কানাডাতেও ছিল। এখন থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে কোরিয়াতেও ছিল। এগুলো এখন শিফট হয়ে চায়না থেকে বাংলাদেশে আসে। কোনো এক সময় হয়তো অন্য কোনো দেশে যাবে, কারণ আমাদের পার্সেজ পাওয়ার বাড়ছে সবার।

ছবি: সারাদিন ডট নিউজ

গার্মেটস সেক্টরকে একটা সেনসেটিভ সেক্টর জানিয়ে এস এম খালেদ বলেন, গার্মেন্ট বায়াররা যেখানে কম দাম পাওয়া যায় সেখানেই চলে যায়। আর ওই রকম থেকেই একটা ইকোনমি বড় হয়। ইকোনমিটা একটু বড় হলে যখন সবার সামর্থ্য হয় ইনভেস্টমেন্টটা তখন ডিফারেন্ট ক্যাটাগরিতে চলে যায়। আমাদেরটাও এক সময় যাবে। আমরা ২০ বছর ধরে যে সেক্টরটা শিখলাম, এটাকে আমরা কেন কন্টিনিউ করব না। শুধুমাত্র আমরা ব্র্যান্ডিংটা জানতাম না, সেটা যোগ করলাম। আমাদের এক্সপার্টদের আমরা কাজে লাগাব যাদের কারণে আমরা একটু বড় পর্যায়ে পৌঁছেছি। তাহলে আমরা সারাকেও একটা বড় পর্যায়ে নিতে পারব। সেই জন্যই আমরা ব্র্যান্ডিং করছি।

ঢাকায় সারার কয়টি শোরুম ও অনলাইন নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, স্নোটেক্সের লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘সারা’র কাজ শুরু ২০১৮ সালের মে থেকে। ঢাকার মিরপুর ‘সারা’র প্রথম আউটলেট। এরপর চালু হয় বসুন্ধরা সিটিতে। তৃতীয় আউটলেটটি মোহাম্মদপুরে। চতুর্থটি সম্প্রতি উত্তরায় চালু হয়। এর পরেরটি শিগগিরই বারিধারায় উদ্বোধন হবে। শুধু তাই নয়, আমরা আগামী বছর আরো পাঁচটি শোরুম করব ঢাকাতে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর এবং বিদেশেও আউটলেট করার পরিকল্পনা রয়েছে। অফলাইনের পাশাপাশি আমাদের আমরা আমাদের ডিজাইনিং টিম, অনলাইন টিম, সফটওয়্যার টিমগুলো ডেভেলপ করছি। এখনো আমরা ব্র্যান্ডটা শিখছি, এটাকে যখন আমরা অর্গনাইজ করব তখন বিভাগীয় শহরে যাব। যখন আমরা আরেকটু অর্গানাইজড হব তখন আমরা বাংলাদেশের বাইরে যাব। সুতরাং এখন আমরা কাছাকাছি থেকে নিজেদের স্ট্রং করার চেষ্টা করছি।

অনলাইনে আমাদের খুব স্ট্রং একটা টিম কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলোকে ঠিক করা আমরা কাজ করছি। আমরা অফলাইন এবং অনলাইন দুটোতেই প্রাধান্য দিয়েছি।

ডিজাইন নিয়ে আমরা পুরো ফ্যামিলির ডিজাইন নিয়ে কাজ করছি জনিয়ে খালেদ বলেন, কত কম দামে একটা ভালো কোয়ালিটি দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করছি। মার্কেটের রিকোয়ারমেন্টের ওপর আমরা ডিজাইন করি। আমাদের খুব স্ট্রং একটা ডিজাইন টিম রয়েছে। দলে ১২ জন ফ্যাশন ডিজাইনার আছেন। মার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী তারা ডিজাইন তৈরি করে যাচ্ছে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে আমাদের পাঁচটা শো-রুম হয়েছে। নতুন বছর ২০২০-এ আমাদের টার্গেট আরো পাঁচটা করব। তারপর ধীরে ধীরে আরো বড় করব সেটাই আমাদের পরিকল্পনা। ‘সারা’কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

সারাদিন/ ২৫ জানুয়ারি/ আরটিএস