পর্তুগালের লিসবনে সংঘর্ষে মুত্যুর খবর গুজব, খবর ভিত্তিহীন

পর্তুগাল সংবাদদাতাপর্তুগাল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ণ, ২৩/০১/২০২০

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে গত শনিবার রাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার যে সংবাদ প্রচার হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানা গেছে। তবে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। অথচ ইউরোপ আওয়ামী লীগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই গুজব সংবাদের প্রচার করেছে। যা আসলে সত্যি নয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) এই বিষয়ে গণমাধ্যম কে নিশ্চিত করেছেন পর্তুগাল আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম ও আবুল বাসার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং পর্তুগাল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ তালুকদার। তাঁরা বলছেন, এই ঘটনায় কেউই মারা যায়নি।

এদিকে ইউরোপ আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ নজরুল ইসলাম তাঁর ফেইসবুক পেজে লিখেন, পর্তুগাল আওয়ামী লীগ নেতা সাহেদ হত্যার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি শিরোনামে। অথচ সেই হামলায় কেউ নিহত হয়নি এবং হামলা পূর্ব শ্ত্রতার জের ধরে,
না জেনে হাস্যকর ভাবে ইউরোপ আওয়ামী লীগ সভাপতির সেই পোস্টে তিনি এ ঘটনায় বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যায়িত করেন।

গুজব ছড়ানো সেই স্ট্যাটাস।

এদিকে তীব্র সমালোচনায় পড়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ নজরুল ইসলাম বুধবার বিকেলেই এই চরম বিতর্কিত পোস্ট ফেইসবুক থেকে মুছে ফেলেন ।

উল্লেখ্য পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা মার্তৃম-মনিজের রুয়া দো টেরিনোতে প্রবাসী বাংলাদেশি দুই পক্ষের মধ্যে ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক বিরোধের জের ধরে গত শনিবার পর্তুগাল সময় রাত ৯:১০ মিনিটে এই সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় লিসবনের সাও জোসে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গেল বছরের সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম মারামারির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলমান ব্যক্তিগত সমস্যার জের ধরে গত শনিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের পরপরই সেখানে পুলিশ পৌঁছে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লিসবনের সান্তা মারিয়া মাইওর জইন্তার প্রেসিডেন্ট ড. মিগুয়েল কোয়েলো। এ ঘটনায় লিসবনে বসবাসরত সাধারণ বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এদিকে এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পর্তুগালের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে লিসবনে বাংলাদেশি দুই পক্ষের মারামারিকে ধর্মীয় রেষারেষি থেকে সৃষ্ট একটি ঘটনা হিসেবে প্রচার করে। ধর্মীয় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারি স্থানীয় পর্তুগিজরা তাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছে। এছাড়া এই সংঘর্ষ নিয়ে বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যম প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ না করে এটাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ এবং এতে একজন নিহত হয়েছেন বলে প্রচার করে। স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সারাদিন/২৩ জানুয়ারি/ টিআরএস