পদ্মা সেতুতে ২২তম স্প্যান বসছে

জেষ্ঠ্য প্রতিবেদকজেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, ২৩/০১/২০২০

পদ্মা সেতুতে ২২তম স্প্যান বসানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) এই স্প্যানটি সেতুর ৫ ও ৬ নম্বর পিলারের উপর বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কারিগরি কোনো সমস্যা দেখা না দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্প্যানটি বসানো সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ধূসর রঙয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন স্প্যানটিকে বহন করে রওয়ানা হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেন। সকাল সোয়া ৯টায় নির্ধারিত পিলারের সামনে এসে পৌঁছিয়েছিল ক্রেনটি ।

এর ফলে সেতুর ৩.১৫ কিলোমিটারের অধিক দৃশ্যমান হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিষয়টি সারাদিন ডট নিউজকে নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

মাওয়া প্রান্তের এই দুই পিলারের উপর স্থায়ীভাবে স্প্যানটি বসলে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৩ হাজার ৩০০ মিটার। ২১তম স্প্যান বসানোর নয় দিনের মাথায় বসতে যাচ্ছে ২২তম স্প্যানটি। ২২তম স্প্যানটি ২৫ জানুয়ারি বসানোর কথা থাকলেও সেদিন চীনা নববর্ষের কারণে তা দুইদিন এগিয়ে নেওয়া হয়।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশল সূত্র জানায়, বর্তমানে স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি পজিশনিং করে নোঙর করার প্রস্তুতি চলছে। নির্ধারিত দুই পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নিয়ে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে তোলা হবে পিলারের উচ্চতায়। রাখা হবে দুই পিলারের বেয়ারিং এর উপর। এরপর পাশের স্প্যানের একটি অংশের সঙ্গে ঝালাই করা হবে।

৬ দশমিক ১৫ দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টীল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে এই মাসের ১৪ জানুয়ারি জাজিরা প্রান্তে ৩২ এবং ৩৩ নম্বর পিলারের ওপর ২১তম স্প্যানটি বসানো হয়েছিলো। পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি । প্রতিটি পিলারের রাখা হয়েছিল ছয়টি পাইল। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হচ্ছে। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে বাংলাদেশে আনা হয়।

জানা গেছে, এ বছরের জুলাই মাস নাগাদ সকল স্প্যান বসানো শেষ হয়ে যাবে এবং ২০২১ সালের জুলাই মাস নাগাদ পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল করবে বলে জানানো হয়। একই সাথে বেশিরভাগ পিলার প্রস্তুত হওয়ার ফলে চলতি বছর প্রতি মাসে তিনটি করে স্প্যান বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুরো সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

সারাদিন/২৩জানুয়ারি/টিআর